জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চালু রাখার দাবিতে মাদারীপুর সরকারি কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে এই মানববন্ধন করা হয়।
ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চলে এই মানববন্ধন। এতে শেখ হাসিনা মহাসড়কের একটি অংশ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
এ সময় পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে তাঁরা বলেন, ‘এক দেশে দুই নীতি চলবে না, চলবে না। আমাদের দাবি একটাই—পরীক্ষা চাই, পরীক্ষা চাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দিতে চাই, দাবি মোদের একটাই—পরীক্ষা চাই, পরীক্ষা চাই। শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলবে না, চলবে না।’
মাদারীপুর সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাদি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহর জন্য বন্ধ করা হয়েছে।
এর আগে দুই সপ্তাহের কথা বলে দুই বছর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ বাড়ার কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলেও গণপরিবহন, নির্বাচন, বাণিজ্য মেলা, সবকিছু চলছে। আমরা এটার জবাব চাই। এভাবে চলতে থাকায় আমরা মেরুদণ্ডহীন জাতিতে পরিণত হচ্ছি।’ এ সময় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
অনার্স চতুর্থ বর্ষের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্যা মন্ডল বলেন, ‘আমরা একটাই দাবি জানাচ্ছি, সেশন জট এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাকি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হোক। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা নিতে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তা হলে কেন টিকা দেওয়া হলো? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা এক বছর পিছিয়ে গেছি। আরও পিছিয়ে পড়ি, তা চাই না।’
মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক ও মাদারীপুর সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় মুন্সী বলেন, ‘ওমিক্রনের দোহাই দিয়ে আমাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বাণিজ্য মেলা চালু রাখা হয়েছে। বিপিএল খেলাও চলছে। শুধু সমস্যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায়। আজ সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন চলছে। সরকার যদি আমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তা হলে আমরা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মমিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইতি আক্তার, মেহেদী হাসান, ইংরেজী বিভাগের লামিয়া আক্তারসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী।