পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের জন্য কার্যকরী সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজ আমরা সেই কার্যকর কৌশলগুলোই জানব। কৌশলগুলো আয়ত্তে আনার জন্য বিভিন্ন মডেল টেস্ট দিয়ে অথবা বাসায় সময় ধরে প্র্যাকটিস সেশন সম্পন্ন করো। যেটা মূল পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করবে।
দুশ্চিন্তা করা যাবে না
পরীক্ষার হলে গিয়ে অনেকের একটা প্রবণতা থাকে, যা পড়েছি সেগুলো থেকে আসবে কি না, ঠিকঠাক লিখে আসতে পারব কি না। প্রকৃতপক্ষে এভাবে দুশ্চিন্তা করে শুধু সময়ই নষ্ট হয় পরীক্ষার হলে।
পরীক্ষার ফরম্যাট জেনে নাও
পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন কাঠামোর সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করিয়ে নাও। কতটি বিভাগ থাকবে, কতটি প্রশ্ন উত্তর করতে হবে, এর জন্য আনুমানিক কত সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। পরীক্ষার নির্দেশাবলি সম্পর্কে ধারণা নাও। এটা সময় পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার করতে সাহায্য করবে।
সময় ভাগ করে নাও
পরীক্ষার প্রশ্নকাঠামোর ওপর স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেওয়ার পরে প্রতিটি প্রশ্নে কত সময় দিতে হবে, এর একটা পূর্ব ধারণা তৈরি করে নাও। যেমন একটি সৃজনশীল প্রশ্নে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এভাবে পরিকল্পনা করলে এটা তোমাকে সঠিক ট্র্যাকে থাকতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করা আছে, এ ব্যাপারটা নিশ্চিত করবে এবং অযথা দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
কনফিডেন্ট আছে এমন টপিক দিয়ে শুরু করো
সব সময় এক সিরিয়ালে প্রশ্ন উত্তর করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। এর চেয়ে ভালো হয় যেসব প্রশ্নের উত্তর তুমি সহজেই করতে পারো, সেগুলো দিয়ে শুরু করো। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং দ্রুত নম্বর তুলতে সাহায্য করবে। সেগুলো উত্তর করা হয়ে গেলে, এরপর বড় ও তুলনামূলক জটিল প্রশ্নগুলো উত্তর করো। তাহলে চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নগুলোর জন্য আরও সময় বরাদ্দ রাখতে পারবে। প্রয়োজন হলে, লেখায় বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারো।
সময়ের দিকে খেয়াল রাখো
পরীক্ষার হলে সময় সম্পর্কে সচেতন থাকো। একটি প্রশ্নে বেশি সময় চলে যাচ্ছে কি না, পরিকল্পনামাফিক সব আগাচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে খেয়াল রেখো। একটি প্রশ্নে খুব বেশি সময় চলে গেলে, পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা রেখে পরবর্তী প্রশ্নের দিকে চলে যাও। পরে সময় বের করে সেই অসম্পূর্ণ উত্তরটি লিখে ফেলো।
রিভিশন দাও
পরীক্ষা শেষ করার পর সময় থাকলে প্রথম থেকে একবার রিভিশন করো। কোনো প্রকার ভুল থাকলে সেগুলো ঠিকঠাক করে নাও। অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার দরকার নেই। এতে করে বেশি কাটাকাটি করার ফলে লেখার সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং কোনো ভুলও থেকে যেতে পারে।
দুশ্চিন্তা না করে, পরীক্ষার যথাযথ ফরম্যাট জেনে, সময় ভাগ করে নিয়ে, তুমি কনফিডেন্ট এমন টপিক দিয়ে শুরু করো, সময়ের দিকে খেয়াল রাখো, সবশেষে রিভিশন দাও। সঠিক পরিকল্পনা এবং সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে তোমার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে।