বাগেরহাটের শরণখোলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের বিরুদ্ধে জাল পর্চা, মিউটেশন ও দাখিলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শরণখোলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শরণখোলা রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মো. আ. রাজ্জাক হাওলাদার একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য দাখিল করেন। কিন্তু ওই দলিলের সঙ্গে দাখিলকৃত ৭ নম্বর দক্ষিণ রাজাপুর মৌজার এস.এ ১৪৪০ নম্বর খরিজ খতিয়ান দাখিল করেন। দাখিলকৃত ওই খারিজ খতিয়ান শরণখোলা সাব-রেজিস্ট্রারের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ওই খতিয়ানটি সঠিক কিনা তা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছে প্রেরণ করা হয়।
পরের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব সহকারী কমিশনার ভূমি) ওই খতিয়ানটি সঠিক নয় মর্মে প্রতিবেদন দেন। সেই সঙ্গে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। এই চিঠির প্রেক্ষিতে দলিল লেখক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর সুপারিশ করেন শরণখোলা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. আবু রায়হান।
শরণখোলা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. আ. হাকিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ রুমি জানান, দলিল লেখক আব্দুর রাজ্জাকের প্রতারণা ও অনৈতিক কাজ কর্মে শরণখোলা দলিল লেখক সমিতি খুবই বিব্রত। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমিতির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করি নাই। আমার এক সহকর্মীর সঙ্গে আমার কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। তিনি এসব অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।’
শরণখোলা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. আবু রায়হান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অপরাধে দলিল লেখক আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।