বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুর বেড়াতে যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম জিহাদ। কথা ছিলো ভাইয়ের সঙ্গে কয়েক দিন থাকবেন সেখানে। কিন্তু হঠাৎ বাড়ি থেকে খবর এল বাবা অসুস্থ। তাই বাবাকে দেখতে দুই ভাই মিলে ভোরে মোটরসাইকেলে করে রওনা দেন গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার উদ্দেশ্যে।
কিন্তু তাঁদের আর বাড়ি ফেরা হলো না। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৌঁছালে পেছন থেকে সজোরে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই সহোদর। গতকাল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তৌহিদুল ইসলাম জিহাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার খরখরিয়া এলাকায়। তাঁর বড় ভাইয়ের নাম ফিরোজ মোর্শেদ। তিনি গাজীপুর জেলার ভবানীপুর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানচালককে আটক করে মামলা দিয়েছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তৌহিদের চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তৌহিদ বিসিএস পরীক্ষা দিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। পরীক্ষা শেষে গাজীপুরে তাঁর ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে আজ বুধবার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় একদিন আগেই দুই ভাই মিলে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু বাবাকে দেখতে বাড়ি আসার আগে তাঁরাই লাশ হয়ে গেলেন।’
এদিকে তৌহিদের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা স্তব্ধ হয়ে গেছেন। বন্ধু তাহমিদুল ইসলাম আকিব বলেন, ‘তৌহিদের মতো বন্ধু জীবনে পাব না। গান, বাজনা, আড্ডা, পড়াশোনায় তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। স্নাতক পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ ছিলেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘তৌহিদের মৃত্যুর খবর শোনার পর কোনো কাজেই মন বসাতে পারছি না। তিনি খুব মেধাবী ও বিনয়ী ছিলেন।’