ঘরোয়া ক্রিকেটের বিতর্ক এড়াতে এ বছর থেকে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএমের) চারটি স্তরে অংশ নেওয়া প্রতিটি ক্লাবকে সমান একটি করে কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পরিষদের। কাউন্সিলরশিপের সঙ্গে সুপার লিগের কোনো যোগ থাকার নিয়মটা তুলে দিতে চাইছে তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুলাই বর্তমান বোর্ডের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। গতকাল সাংবাদিকদের পাপন বলেছেন, ‘এখন আমাদের সুপার লিগে যারা খেলে, তাদের দুটি করে কাউন্সিলরশিপ থাকে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের কিছু কিছু ক্লাব পায় (কাউন্সিলরশিপ), কিছু কিছু ক্লাব পায় না। আগামী এজিএমে এটাকে সমান করে দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করব। সবার জন্য যদি সমান হয়ে যায়, তাহলে এটা নিয়ে মারামারির (বিতর্ক) কিছু নেই।’
বিসিবির গঠনতন্ত্র (সংশোধিত ২০১৭) অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের মধ্যে সুপার লিগের ছয়টি ক্লাব ২টি করে এবং বাকিরা ১টি করে বোর্ডের কাউন্সিলরশিপ বা সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারে। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করলেই মিলত ১টি করে কাউন্সিলরশিপ, দ্বিতীয় বিভাগে সুপার লিগে ওঠা প্রথম ১২ ক্লাব এবং তৃতীয় বিভাগের প্রথম ৮টি ক্লাব পেত কাউন্সিলরশিপ। তবে প্রস্তাবিত এই নিয়মে এখন আর সেই সুযোগ থাকবে না। সিসিডিএমের যেকোনো বিভাগে অংশ নিলেই মিলবে কাউন্সিলরশিপ বা পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের ভোটাধিকার। সুপার লিগে কাউন্সিলরশিপ বেশি থাকায় বেশির ভাগ লিগেও হয়ে থাকে নানা বিতর্ক।
এই বিতর্ক দূর করতে বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা যে উদ্যোগ নিচ্ছেন, সেটিও কতটা ফলপ্রসূ হবে, সংশয় প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো কাউন্সিলর। ১৯ জুলাই এজিএমে প্রস্তাবটি পাস হলে প্রথম বিভাগে অংশ নেওয়া ২০টি ক্লাব, দ্বিতীয় বিভাগে অংশ নেওয়া ২৪ ও তৃতীয় বিভাগে অংশ নেওয়া ২০ ক্লাব পাবে একটি করে কাউন্সিলরশিপ। আর প্রিমিয়ার ডিভিশনে ১২ ক্লাব তো আছেই। সবার ওপরে থাকা প্রিমিয়ার লিগে কাউন্সিলরশিপ ৬টি কমলেও নিচের তিনটি লিগে কাউন্সিলরশিপ ৪০টির জায়গায় ২৪টি বেড়ে হবে ৬৪টি। এটি করতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হবে বোর্ডকে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে চায় বোর্ড। আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা বাস্তবায়নে সামনের এজিএমে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা জানিয়েছেন বিসিবির সভাপতি। গতকালের সভায় জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও দুজনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বোর্ড সভায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ স্টুয়ার্ট ল এবং ব্যাটিং কোচ ওয়াসিম জাফরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।