ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য ত্রিশালে পুরোনো তিন মুখ ঠিক রেখে নতুন করে ৯ জনকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড। তবে এবারও নৌকার জয়ে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন মনোনয়ন না পাওয়া প্রার্থীরা। স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মী ও ভোটাররা এমনটাই মনে করছেন। গতবার মনোনয়ন পাওয়া ১২ জনের মধ্যে এবার মাত্র তিনজন নৌকার টিকিট পেয়েছেন। বাকিরা ছিটকে গেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিপাড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল ফের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ছাড়া সাখুয়া ইউপির আব্দুল আজিজ ও হরিরামপুর ইউপি মেজবাহুল আলমও গতবার দলীয় মনোনয়ন পান। তবে জয়ী হতে পারেননি। এবারও তাঁদের দলীয় পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে উপজেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, ১২ ইউপিতে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পর না ধরনের হিসাব কষছেন ভোটাররা। কেউ কেউ বলছেন, তাঁদের ইউনিয়নের মনোনয়ন সঠিক হয়েছে। আবার কেউ কেউ যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পায়নি বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন ঘিরে চায়ের দোকানেও মুখরোচক আলোচনা চলছে।
এদিকে স্থানীয় এই নির্বাচনে প্রতীক তেমন ভূমিকা রাখবে না বলে মনে করছেন অনেকে। তারা আঞ্চলিকতা ও ব্যক্তি ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবার অনেক নৌকা প্রত্যাশী মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ে অবদান রাখতে পারেন বলেও মনে করছেন অনেকে।
তবে মঠবাড়ী ইউনিয়নের ছাইফুল এক ভোটার বলেন, ‘আমরা প্রতীক দেখে নয়। এবার ব্যক্তি দেখে ভোট দেব। আমাদের এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করবে, এমন ব্যক্তি দেখে ভোট দেব।’
কাঁঠাল ইউনিয়নের সজিব বলেন, ‘আমার এলাকা সবচেয়ে অবহেলিত। এবার দেখেশুনে ভোট দেব। যিনি আমার এলাকার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করবেন বলে মনে হবে তাঁকে ভোট দেব।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, এরই মধ্যে নৌকা প্রত্যাশীরা নৌকা না পেয়েও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজ নিজ ইউনিয়নে সমর্থকদের নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন। মনোনয়ন সঠিক হয়নি বলে বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে কয়েক জায়গায়। অনেক প্রার্থীর সমর্থকেরা যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়নি অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন এসেছে বলেও অভিযোগও তুলছেন।
খোরশেদ নামে একজন বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিটি ইউনিয়নে দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতা–কর্মীরা। পরে যখন একদলের প্রতিনিধি প্রতীক নিয়ে আসে, তখন আরেক দল বিপক্ষ শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। দলীয় প্রতীকের ভরাডুবি এভাবেই হয়।’
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. জিয়াউল হক সবুজ বলেন, ‘তৃণমূলের সুপারিশে যারা মনোনয়ন চেয়েছেন তাঁদের থেকেই যাচাই-বাছাই করে একজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ অনেক বড় একটি দল। আবেদনকারী সবাই ভালো প্রার্থী এবং মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিবেচনায় যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি ভালো প্রার্থী। আমাদের আবেদন থাকবে আমরা যেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করা সংগঠন পরিপন্থী।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় মনোনয়ন প্রাপ্তরা হলেন ধানীখোলা ইউপিতে মো. মামুনুর রশীদ, বৈলরে মুহাম্মদ শাহজাহান কবীর, কাঁঠালে মো. শেখ কবীর রায়হান, কানিহারীতে মো. শহিদউল্লাহ মন্ডল, রামপুরে মো. আপেল মাহমুদ, ত্রিশালে জাকির হোসাইন, হরিরামপুরে মেজবাহুল আলম, সাখুয়ায় আব্দুল আজিজ, বালিপাড়ায় গোলাম মোহাম্মদ বাদল, মঠবাড়ীতে মো. সামছুদ্দিন, মোক্ষপুরে মো. আশরাফ উদ্দিন ও আমিরাবাড়ী ইউপিতে মো. হাবিবুর রহমান।