করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশীয় টিকা বঙ্গভ্যাক্স অতি সংক্রমণশীল ডেলটাসহ সব ধরন মোকাবিলায় কার্যকর বলে দাবি করেছে গ্লোব বায়োটেক। প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আজকের পত্রিকাকে জানান, বানরের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর কার্যকারিতার এই প্রমাণ মিলেছে।
গত ১ আগস্ট থেকে বানরের ওপর বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়াল শুরু করে গ্লোব বায়োটেক। কার্যক্রম শেষ হলে চলতি মাসের শেষের দিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের টিকাকে করোনার টিকার তালিকাভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সরকারের অনুমোদন পেলে শিগগিরই বাজারে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে টিকাটি বানরের ওপর বেশ কয়েকবার প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বানরের শরীরে, যা থেকে প্রমাণিত হয়, এটা মানবদেহেও সমান কার্যকর হবে। কারণ, বানর আর মানুষের মধ্যে জিনগত বেশ মিল রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্বে সক্রিয় ডেলটাসহ ১১টি ধরনের সিকোয়েন্স পর্যবেক্ষণ করে টিকার সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ধরনের ক্ষেত্রেই বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুতগতিতে করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ভারতীয় ধরন বা ডেলটা, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, আফ্রিকানসহ ভাইরাসের অন্তত ১১টি ধরন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে প্রমাণিত ডেলটা, যা তাণ্ডব চালাচ্ছে এখনো। গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশেও আক্রান্তদের ৯০ ভাগই ডেলটার শিকার। প্রচলিত বেশির ভাগ টিকা ডেলটার বিরুদ্ধে খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না দাবি করে ড. মহিউদ্দিন বলেন, এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বঙ্গভ্যাক্স। গ্লোব বায়োটেক বলছে, এ টিকা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রিতে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।