পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই ইউনিয়নে মোটরসাইকেলচালক মাসুদ রানা হত্যা মামলার সূত্র উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, ‘গত ৬ নভেম্বর রাতে মাসুদ হত্যার ৫ ঘণ্টা পর পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মজনু মোল্লার সমর্থক মাসুদ রানাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আল আমিন ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ছাড়া গত ১১ নভেম্বর হত্যার সঙ্গে জড়িত বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাসুমবিল্লাহ নামে একজনকে গত ২৩ নভেম্বর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার পথে মির্জাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মাসুমবিল্লাহের তথ্য মতে বড় বিঘাইয়ের ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান মজনু মোল্লার বাড়ির পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল, লোহার রডের সঙ্গে স্ক্রু সংযুক্ত চেইন গিয়ারের সমন্বয়ে তৈরি করা দেশীয় অস্ত্র এবং দুটি বগি দা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
এদিকে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনের দিন থেকে বড় বিঘাই ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান মজনু মোল্লা পলাতক রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মাসুদ রানা মজনু মোল্লার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন।