হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন কে না দেখে। পৃথিবীর অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এটি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও বৃত্তি সম্পর্কে বলেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়াম শহীদ নূর
আর্থিক সহায়তা
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনে ভর্তির প্রক্রিয়া হার্ভার্ড কলেজের অধীনে হয়। আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনে ভর্তি-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের জন্য হার্ভার্ড কলেজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। হার্ভার্ড কলেজের আবেদনের প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের ক্যাটাগরিতে ভাগ করে। একটা ক্যাটাগরি হচ্ছে নিজ দেশের শিক্ষার্থী এবং অন্য ক্যাটাগরিটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ইউএসএর বাইরের দেশের শিক্ষার্থীরা পড়েন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে পড়ে। হার্ভার্ড কলেজ বা আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনের জন্য স্কলারশিপ বলতে আর্থিক সহায়তা বোঝায়। তারা স্কলারশিপ দেয় না, তারা আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। আপনি যদি হার্ভার্ড কলেজে সুযোগ পান তাহলে আপনি মেধাবী ও যোগ্য। হার্ভার্ড কলেজের পলিসি হচ্ছে, আপনি যদি হার্ভার্ড কলেজে আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনে পড়ার সুযোগ পান তাহলে আপনার সব খরচ তারা বহন করবে। এটার জন্য আলাদা কোনো আবেদনের প্রক্রিয়া নেই। ভর্তির আবেদনের সময় আপনাকে মেনশন করতে হবে যে আপনি আর্থিক সহায়তা পেতে ইচ্ছুক। পরবর্তী সময় তারা আপনার আর্থিক কাগজপত্র যেমন বাবা-মায়ের আয়ের স্টেটম্যান্ট বা ট্যাক্স পেপার, যেখান থেকে তারা ইনকাম যাচাই করতে পারবে, সেটা চাইবে। এসব কাগজপত্র যাচাই করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করবে। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বেশ উদার। বাবা-মায়ের আয় যদি বছরে ৬৫ হাজার ডলারের কম হয়, তাহলে তারা আপনাকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তার ক্যাটাগরিতে ফেলবে। তার মানে আপনার সব খরচ তারা বহন করবে। আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.youtube.com/SeeamShahidNoor
আবেদনের প্রক্রিয়া
হার্ভার্ড কলেজের ওয়েবসাইটে আলাদা ভর্তি ট্যাব রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের রিকোয়ারমেন্ট পাওয়া যাবে। এরমধ্যে কমন অ্যাপ্লিকেশনের প্রোফাইল পূরণ করতে হবে। সেখানে আপনার নাম, ব্যক্তিগত অন্যান্য তথ্য, নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল, বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল, স্যাট স্কোর, আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করতে হয়। আপনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের পুরস্কার আছে কি না, এ রকম সব ধরনের বর্ণনা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কমন অ্যাপ্লিকেশনটি জমা দিতে হয়। পাশাপাশি অন্যান্য রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করতে হবে। লিংক– https://college.harvard.edu/admissions
সুযোগ-সুবিধা
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করে একজন ছাত্র যদি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়, তাহলে প্রতিবছর ৭০ হাজার ডলার খরচ হবে। টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার ফি, প্লেনের টিকিট ফি, বইখাতা কেনার ফি, অন্যান্য খরচসহ মোট ৭৩-৭৪ হাজার ডলারের মতো প্রতিবছর দিয়ে থাকে। আপনি যদি ১০০ ভাগ আর্থিক সহায়তা পান, তাহলে ৭৪ হাজার ডলার দিয়ে থাকবে, যা অনেক আবেদনকারীর প্রয়োজন হয় না। হার্ভার্ড পৃথিবীর অন্যতম একটি ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং তারা যখন আপনার ব্যক্তিগত খরচ এস্টিমেট করবে, সেটা একটু বেশিই হবে। আর আপনি এই স্কলারশিপ নিয়ে নিশ্চিন্তে সেখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। অনেক সময় আমার বছরে দুবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার টিকিটের খরচ মিটে যেত। তারপরও আমার টাকা বেঁচে যেত।
কোন কোন বিষয়ে পড়তে পারবেন?
হার্ভার্ড কলেজে মেজর করার মতো ৪৯টি বিষয় রয়েছে, যেগুলো বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, প্রকৌশল অনুষদের অন্তর্ভুক্ত। হার্ভার্ড কলেজে একজন শিক্ষার্থী জেনারেলি চান্স পায়। ওখানে যাওয়ার পর যেকোনো সাবজেক্টে মেজর করতে পারবেন।
অনুলিখন: অনয় আহম্মেদ