একটা উইকেটের জন্য হাপিত্যেশ বাড়ছে চারপাশে। মূল বোলাররা যখন ভাঙতে পারছেন না পাকিস্তানি ওপেনারদের ‘দুর্ভেদ্য দেয়াল’, শেষ বিকেলে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক নিজেই হাতে তুলে নিলেন বল। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি বাংলাদেশের কেমন কেটেছে, সেটির সারমর্ম যেন হয়ে রইল এই দৃশ্যটি।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি যদি বাংলাদেশের হয়, দ্বিতীয় দিনের পুরোটাই পকেটে ভরেছে পাকিস্তান। প্রথমে লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশকে ৩৩০ রানে থামিয়ে দিয়ে শুরু। এরপর দুই ওপেনারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ১৪৫ রান তুলে ফেলেছে বাবর আজমের দল। ম্যাচটি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে পাকিস্তানের পাশেই ‘সুবিধাজনক অবস্থায়’ শব্দ দুটি লিখতে হবে। তবে আশা হারাচ্ছেন না লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার বলেছেন, ‘খেলা এখনো দুই দিকেই আছে।’
প্রথম দিন ৫৮ মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। গতকালও বাংলাদেশের সকালটা ধূসরই থাকল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে লিটন দাসের ১১৪ রানে এলবিডব্লু হয়ে ফেরা দিয়ে শুরু। এরপরই ঘরের উঠানে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং করতে নামলেন ইয়াসির আলী। দুর্দান্ত এক কাভার ড্রাইভে আন্তর্জাতিক রানের খাতা খোলা ইয়াসির ফিরলেন দর্শকেরা ঠিকঠাকভাবে গ্যালারিতে বসার আগেই। হাসান আলীর দুর্দান্ত বলটায় বোল্ড হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে ইয়াসির বুঝে গেলেন, পথটা কত কঠিন! আর ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে হাসান আলী যেন জবাব দিলেন বিশ্বকাপ-ব্যর্থতায় তাঁকে ঘিরে সব সমালোচনার।
এই জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামই প্রথম সেঞ্চুরির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল মুশফিককে। সেই মাঠই তাঁকে শুধু হতাশা উপহার দিচ্ছে। এই মাঠে তিনি টেস্টে তিনবার নড়বড়ে নব্বইয়ের শিকার হলেন। গতকাল তাঁর ফেরা সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থেকে। গতকাল ৭৭ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের স্কোরটা যে ৩৩০ হয়েছে, সেটির কৃতিত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের। সঙ্গী পেলে নিজের ৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংসটা নিশ্চয়ই আরও বড় করতে পারতেন মিরাজ।
চট্টগ্রামের ব্যাটিংস্বর্গে উইকেটে লাঞ্চের পর নির্বিঘ্নভাবে এগিয়ে চলা পাকিস্তানের রান তখন ৩১। তাইজুল ইসলামের করা ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলটা বাঁক খেয়ে ছোবল দেয় ভেতরের দিকে। একটু পেছনে গিয়ে কাট করতে গিয়ে পরাস্ত হন শফিক। বাংলাদেশ জোরালো এলবিডব্লুর আবেদন করলেও সাড়া দেননি আম্পায়ার। দ্বিধায় থাকা বাংলাদেশ অধিনায়কও রিভিউ নেননি। খানিক পরেই মুমিনুলের চোখ খুলে দেয় রিপ্লে, রিভিউ নিলেই উইকেট পেত বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দুই দিন হাজির হয়েছে দুই চেহারায়। প্রথম দিন বাংলাদেশের, দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানের। কাল দিনের খেলা শেষ লিটন অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা যখন (প্রথম) দিন শেষ করেছি, আমাদের ইচ্ছা ছিল একটা ভালো সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাব কাল (পরশু)। কিন্তু এটাই ক্রিকেট। যেটা আগের দিন হয়, সেটা পরের দিন হয় না।’ বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার আরও যোগ করলেন, ‘আমরা কাল (আজ) যদি তাদের দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারি, তাহলে ম্যাচটা অন্য রকম হবে। আমি মনে করি, ম্যাচ এখন পর্যন্ত দুই দিকেই আছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লিটন। চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি করে সব সমালোচনার উত্তর দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। মাঝের এই কঠিন সময়টা তিনি নিজেকে কীভাবে তৈরি করেছেন, বলেছেন লিটন, ‘বিশ্বকাপের পর জাতীয় লিগে একটা ম্যাচ খেলেছি। প্রস্তুতি নিয়েছি যে সামনে টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যতটা প্রস্তুতি দরকার, সেটুকু নিয়েছি। এর বাইরে কিছু চিন্তাও করিনি। অতিরিক্ত কিছু চাইনি নিজের কাছে।’ পরে লিটন বলেছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটাই, ‘আমার কষ্ট ছিল, পরিশ্রম ছিল।’