স্টুডেন্টদের জন্য ইউরোপের অনেক দেশ এখন ভিসা কড়াকড়ি করে দিয়েছে। তবে ইউরোপের অন্যতম দেশ হাঙ্গেরি ভিসার ব্যাপারে একদম শিথিলতা বজায় রেখেছে। ফলে প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য সে দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। হাঙ্গেরি হলো ইউরোপে ঢোকার প্রধান গেটওয়ে। তাই হাঙ্গেরিতে পড়াশোনার প্রচুর সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যেহেতু হাঙ্গেরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় মানের, তাই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া টিউশন ফি ইউরোপের অন্য সব দেশের তুলনায় অনেক কম হয়।
হাঙ্গেরি ইউরোপের শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। তাই নিরাপদে উন্নত মানের পড়াশোনা শেষ করতে প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী সে দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ ছাড়া হাঙ্গেরি সেনজেনভুক্ত দেশ হওয়ায় ইউরোপের ২৫টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ এবং সেসব দেশে চাকরির সুযোগ রয়েছে।
সেরা ৩ ইউনিভার্সিটি
হাঙ্গেরির শিক্ষার মান বেশ ভালো এবং সর্বত্র এই ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা ৩টি ইউনিভার্সিটি হলো:
এখানে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি ও বিভিন্ন শর্ট কোর্স অফার করে থাকে। ব্যাচেলর কোর্স (তিন-চার বছর মেয়াদি), মাস্টার্স কোর্স (এক-দুই বছর মেয়াদি), পিএইচডি/ডক্টোরাল কোর্সগুলো তিন-পাঁচ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ব্যাচেলর কোর্স হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পড়ানো হয়, তবে মাস্টার্স ও ডক্টোরাল প্রোগ্রামগুলোয় যথেষ্ট ইংরেজি মাধ্যম রয়েছে। ব্যাচেলর লেভেলেও
ইংরেজি মাধ্যমের কোর্স রয়েছে। তবে সেগুলো পড়তে হলে আইইএলটিএস আবশ্যক।
আবেদনের সময় ও প্রক্রিয়া
হাঙ্গেরিতে সাধারণত বছরে দুইবার আবেদন করা যায়। একটি হলো ১ এপ্রিল থেকে ১ জুলাই এবং অপরটি ১ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর। সময় পরিবর্তিত হতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে হবে।
টিউশন ফি
হাঙ্গেরিতে পড়াশোনা করতে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ইউরো লাগে। এটি আসলে নির্ভর করে ইউনিভার্সিটি ও বিষয়ের ওপর। বিস্তারিত জানতে পছন্দের ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে হবে।
আবেদন করতে যা যা লাগে
জীবনযাত্রার ব্যয়
হাঙ্গেরিতে মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ গড়ে ৫৫০ থেকে ৮৫০ ইউরো। বিদেশি শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ পান। হাঙ্গেরি ভাষা জানলে পার্টটাইম কাজ পেতে সুবিধা হয়।
উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত সংবাদ পেতে - এখানে ক্লিক করুন
নাগরিকত্ব
পড়ালেখা শেষে হাঙ্গেরিতে খুব সহজেই স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে। আইনিভাবে হাঙ্গেরিতে তিন বছর থাকলে জাতীয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। শুধু তা-ই নয়, হাঙ্গেরির নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে সেই ডকুমেন্টস দিয়ে ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বসবাস করার সুযোগ রয়েছে।
ফারিয়া ইসলাম দীপ্তি
এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন: