বাংলাদেশের একমাত্র ক্লোরোফর্ম বৃক্ষ আফ্রিকান টিকওক দাঁড়িয়ে আছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। পর্যাপ্ত যত্ন না থাকায় বিরল প্রজাতির একমাত্র এ গাছটি হারিয়ে যাওয়ার পথে। এবার গাছের টিস্যু সংরক্ষণ করে চারা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আফ্রিকান টিকওক একটি দুর্লভ এবং বিরল প্রজাতির গাছ। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও এই গাছ থেকে কোনো চারা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে এ জাতের আর কোনো গাছ নেই। এমনকি কোনো বীজও নেই। পাতা, ছাল এবং ডাল থেকেও এর চারা হয় না। ফলে এর চারা করা দুষ্কর। দীর্ঘদিন বিভিন্ন গবেষক চেষ্টা করেও পারেননি। এবার গাছ থেকে টিস্যু নিয়ে চারা তৈরির চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ বন গবেষণাগারের প্রধান গবেষক ড. রফিকুল হায়দার।
গবেষক রফিকুল হায়দার জানান, ‘সহজ কোনো পথ না পেয়ে গাছের টিস্যু সংগ্রহ করেছি। টিস্যু থেকে চারা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক সফলতা আসে কি না।’
সরেজমিনে দেখা যায়, দেড় শ ফুট উঁচু গাছটি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। গোড়ায় পচন ধরেছে, একাংশে ক্ষয় শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে ক্ষত বৃদ্ধি পাবে, রক্ষণাবেক্ষণ না করলে এবং নতুন চারা তৈরি না করলে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে একপর্যায়ে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
আফ্রিকান টিক ওক প্রজাতি ক্লোরোফোরা এক্সেলসা ক্রান্তীয় আফ্রিকার গাছ। এটি ১৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের কাঠ বাদ্যযন্ত্র ড্রামস এবং কফিন বানাতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া আসবাবপত্র, ঘরের মেঝে এবং নৌকা তৈরি করা যায়। গাছটি পঞ্চাশ বছর পরে কাটার জন্য প্রস্তুত হয়। অন্যদিকে ভেষজ ঔষধি গাছ হিসেবে আফ্রিকায় এর পাতা ও ছালের বহু ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে কাশি, হার্টের সমস্যা এবং দুর্বলতার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ গাছের কষ এক ধরনের অ্যান্টি-টিউমার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৩০ সালে এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে কয়েকটি চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে দুটি গাছ টিকে ছিল। ২০০৬ সালের ৭ জুলাই একটি গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে।