চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আবাসন প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প বাতিল করে ওই এলাকায় ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত না দিলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এমন হুঁশিয়ারি দেন ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড বসত ভিটা রক্ষা কমিটির নেতারা।
ওই এলাকায় সিডিএ ‘ফতেয়াবাদ নিউ সিটি’ নামের একটি আবাসন প্রকল্প করছে। এতে অন্তত দুই লাখ মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে বসত ভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক দুর্গাপদ নাথ বলেন, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থিত এই ওয়ার্ডের পশ্চিমে পাহাড় এবং পাদদেশে বিপুলসংখ্যক বসতি ও কৃষি জমি রয়েছে। এখানে পরিত্যক্ত কোনো জমি নেই। ১৫ বছর আগে সিডিএ ‘ফতেয়াবাদ নিউ সিটি’ নামে আবাসিক প্রকল্প করার লক্ষ্যে দক্ষিণ পাহাড়তলী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী আংশিক ও পার্শ্ববর্তী ফতেপুর ইউনিয়নের কিছু অংশে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। তখন থেকে এখানে নতুন ভবন নির্মাণে সিডিএ কোনো নকশা অনুমোদন দিচ্ছে না। এ অবস্থায় কোনো ধরনের ঘোষণা ও গেজেট নোটিফিকেশন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অনুমোদন বন্ধ রাখায় ওই এলাকার জমির দাম কমে গেছে বলেও জানান তিনি।
দুর্গাপদ নাথ বলেন, দক্ষিণ পাহাড়তলীতে বসতি ছাড়া বাকি সব কৃষিজমি। সঙ্গে রয়েছে মৎস্য ও কৃষি খামার। এলাকার বেশির ভাগই কৃষিজীবী। তাঁরা বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গুটিকয়েক কয়েক উচ্চবিত্তের আবাসন সংকট নিরসনের নামে কৃষিনির্ভর বাসিন্দাদের বাপ-দাদার জমি সিডিএ অধিগ্রহণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দুর্গাপদ নাথ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও সেই টাকায় আশপাশের এলাকায় বসতি স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দক্ষিণ পাহাড়তলীর মানুষ ভূমিহীন ও ছিন্নমূলে পরিণত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী শফিউল আজিম বলেন, ‘আমরা সরকারি উন্নয়নের বিরুদ্ধে না। সিডিএ আমার এলাকার মানুষের বসতভিটা উচ্ছেদ করলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কোথায় যাবে?’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান, সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ফজলুল কাদের, রজত চক্রবর্তী, অঞ্জন কারণ, মো. লোকমান হাকিম, গাজী মঈনুদ্দিন, গাজী মো. আক্কাস, মো. রুবেল, আইয়ুব আলী, গাজী মো. মহিউদ্দিন।