চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে ধারণক্ষমতার সাত গুণ বন্দী রয়েছে। জেলের ভেতর জায়গা ছোট হওয়ায় গাদাগাদি করেই থাকতে হচ্ছে বন্দীদের। এর পরও সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বন্দীদের করোনা প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে মহামারি করোনার টিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দীর স্বজনেরা।
এর আগে কারাগারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কারণে আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দীদের স্বজনেরা। যদিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে এখনো করোনা রোগী শনাক্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে বন্দীদের ধারণক্ষমতা ১৭৫ জন। সেখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বন্দী রয়েছে ১ হাজার ১২৩ জন। এর মধ্যে নারী ২৮ জন, বাকিরা সবাই পুরুষ।
শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মাস্টারপাড়ার এলিনা খাতুন নামের এক নারী জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে তাঁর ছেলে আবিদুল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁকে করোনা প্রতিরোধে এখনো টিকা দেওয়া হয়নি। তিনি বন্দীদের টিকা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গোমস্তাপুর উপজেলার নয় দিয়াড়ি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, একটি মামলায় তাঁর ভাই সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। এখনো তাঁকে টিকা দেওয়া হয়নি।
আশরাফুল ইসলামের দাবি, কারাগারের ভেতরে একজনের থাকার জায়গাতে চার থেকে ছয়জন পর্যন্ত থাকতে হয়। এ ছাড়া বাইরে থেকে নতুন বন্দী কারাগারে যাচ্ছেন আবার জামিনে ছাড়া পেয়ে ভেতর থেকে বের হয়ে আসছেন অনেক বন্দী। একসঙ্গে এত বন্দী থাকার কারণে যেকোনো মুহূর্তে ছড়াতে পারে করোনা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বেসরকারি কারা পরিদর্শক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা রুমা বলেন, করোনার কারণে সব বন্দীকে আদালতে তোলা হয় না। শুধু নতুন এবং রায়ের দিন ধার্য থাকে, তাঁদের আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়।
ইয়াসমিন সুলতানা রুমা আরও বলেন, করোনার কারণে তিনি কমিটির সদস্য হয়েও প্রায় দেড় বছর কারাগার পরিদর্শন করতে পারেননি।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বন্দীদের করোনার টিকা দিতে এখনো তাঁদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা আসেনি। তাঁরা শুধু রেজিস্ট্রেশনকারীদের টিকা প্রদান করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা এলেই কারাগারের বন্দীদের টিকার ব্যবস্থা করা হবে।