পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির দাওয়াহ শাখার প্রধান সংগঠক হাফেজ মো. ওয়াহিদুল ইসলাম (৩৮) শিক্ষকতার আড়ালে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা জেএমবির দাওয়াহ শাখার কাজের দেখভাল করতেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে রডমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করলেও আড়ালে একই কাজ করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গ্রেপ্তার মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের মির্জাপাড়ার বাসিন্দা। এ ছাড়া তিনি একই উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের মণ্ডলের বাজার কুমুরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজখানার হাফেজ বিভাগের শিক্ষক। গত বুধবার রাতে রাজধানী ঢাকার গাবতলী-আরিচা হাইওয়ের এসএস ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট।
ছাতিয়ানগড় গ্রামের আবু সায়েদ জানান, ওয়াহিদুল ইসলাম বাড়ির পাশে মাদার দরগা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর একই ইউনিয়নের আকবর আলী শাহ উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিন্তু স্কুলের ওই শ্রেণিতে শুধু ভর্তি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলেন। শুরুতে তিনি রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। মাঝেমধ্যে রডমিস্ত্রির কাজের কথা বলে আট-দশ দিন নিরুদ্দেশ থাকতেন। কুমুরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার পুত্র আজিজুল হক জানান, প্রায় ছয় মাস আগে এ মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন হাফেজ ওয়াহিদুল ইসলাম। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পুটিহারি মাঝাপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গিকে আটক করে র্যাব। ওই ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা হন ওই শিক্ষক। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি হাফেজ ওয়াহিদুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেন। পত্রিকায় ছবি ও নাম দেখে জানা যায় তিনি জঙ্গি সংগঠনের প্রধান।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস শাখার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাজধানী ঢাকা থেকে হাফেজ ওয়াহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পুটিহারি মাঝাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব-১৩।