নীলফামারী পৌর নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটাররা উৎসবে মেতে উঠেছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের অলিগলি। পাড়া-মহল্লার মোড়ে, চায়ের দোকানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে হচ্ছেন মেয়র। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচারে পিছিয়ে নেই। তাঁরাও এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে খুশি নন ভোটাররা।
নীলফামারী নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস সূত্রমতে, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৮ নভেম্বর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫টি। ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৪১৬ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৫৬৫ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মাইকেও প্রার্থীদের প্রচার চলছে সমানতালে। প্রার্থীরা পৌরসভার উন্নয়নে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। প্রত্যেক প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন তাঁরা। নির্বাচন এলে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তার বাস্তবায়ন দেখতে চান পৌরবাসী।
সূত্রমতে, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ। তিনি টানা ৩২ বছর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী যুবলীগ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান বুলেট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন এবং
কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল আলম।
তাঁরা বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে প্রত্যেকেই বিজয়ের আশা প্রকাশ করেন।
পৌরসভা ব্যবসায়ী আহসান আলী জানান, ‘শুধু আশ্বাস নয়, পৌরসভার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নের বাস্তবায়ন চাই। নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকে তা ভুলে যান। তাই এবার যোগ্য, সৎ ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে ভোট দিতে চাই।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ইভিএমে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ আসে নাই।