এবার এমন এক জায়গায় যাওয়ার কথা ভাবলেন নবনীতা দেবসেন, যেখানে পারমিট ছাড়া যাওয়া যায় না। তাওয়াং নাম জায়গাটির। জীবনটাকে নবনীতা বুঝে নিতে চাইছেন তখন। তেজপুরে যাদের বাড়িতে উঠলেন, তারাও বারবার মানা করতে লাগলেন। তাদের ছেলে শমি অবশ্য মাসিকে উৎসাহ দিয়ে চলল।
তাওয়াং এমন এক এলাকা যেখানে ভারতীয় কিংবা চীনা, কোনো দেশের সৈন্য থাকতে পারবে না। চল্লিশ মাইল এলাকা সেনাবাহিনীবিহীন এলাকা। গার্ডরা থাকে সীমান্তে। ভারতীয় আর চীনা গার্ডরা নাকি একসঙ্গে বসে খানাপিনা করে।
এ রকম এক জায়গায় নবনীতা যেতে চাইছেন, তা-ও আবার একা—এই ভাবনার প্রবল বিরোধিতা হতে থাকল। নবনীতার একই কথা, যেতে হবে। অথচ সেখানে যেতে হলে ওভারকোট, মাফলার, বাঁদুরে টুপি, দস্তানা চাই। উলের মোজা, জুতো, মোটা সোয়েটার, গরম গেঞ্জি, গরম ইজের চাই। এগুলোর কিছুই নেই নবনীতার। কিন্তু তাওয়াং যাওয়া চাই–ই চাই।
শমি বলে, ‘কেন মাসিকে যেতে দিচ্ছ না তোমরা? তোমরা কি মাসির গার্জিয়ান? মাসি একটা অ্যাডাল্ট।’
এবার শমির মা, নবনীতার আলোদি বললেন, ‘আমি কি বলেছি যেও না? কেবল বলেছি খুব রিস্কি ব্যাপার। তোমার বাবাই তো আপত্তি করছেন।’
এ সময় এই বাড়িতে বেড়াতে এলেন ডা. প্রবোধচন্দ্র সেনের মেয়ে, যাকে ইলাদি নামে ডাকা হয়। দুই মিনিটের মধ্যে সখ্য হয়ে গেল নবনীতার সঙ্গে। আর তারপরই নবনীতার প্রশ্ন, ‘আপনার বাঁদুরে টুপি আছে?’
ঘাবড়ে গেলেন না ইলাদি। বললেন, ‘বাঁদুরে টুপি? আমার নেই, তবে আমার শ্বশুর মশায়ের আছে। কেন বলো তো?’
আলোদি বলেন, ‘আর কেন? পাগলামির চূড়ান্ত। বলে কিনা তাওয়াং যাবে। দেবেন না, খবরদার!’
নবনীতা বলেন, ‘না দিলে শাল মুড়ি দিয়ে চলে যাব।’
এবং সত্যিই পারমিট জোগাড় করে, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কাপড় জোগাড় করে তাওয়াং চলে গেলেন নবনীতা। পরিচিত হলেন অন্য রকম এক জীবনের সঙ্গে।
সূত্র: নবনীতা দেবসেন, ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে, পৃষ্ঠা ৪৪-৪৬