তরুণ নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি প্রান্তিক মানুষের জীবন নিয়ে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ও তথ্যচিত্র বানিয়েছেন। এবার তিনি হাত দিলেন তাঁর প্রথম সিনেমায়। ‘নয়া মানুষ’ নামের এ সিনেমার কেন্দ্রেও আছে চরাঞ্চলে বসবাসরত প্রান্তিক মানুষ। ১৩ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের কানুদির চরে চলছে শুটিং। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন রওনক হাসান ও মৌসুমী হামিদ।
নির্মাতা সোহেল রানা বলেন, ‘ঢাকা থেকে প্রায় ৬০ জনের টিম নিয়ে এসেছি। আরও প্রায় ৭০ জন স্থানীয় শিল্পী কাজ করছেন। এক সপ্তাহ ধরে চরের প্রখর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে শুটিং করছি। শুটিং চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।’ কী নিয়ে নয়া মানুষ সিনেমার গল্প? নির্মাতা জানান, আবহমান বাংলার জনজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন নদী। বেঁচে থাকার প্রেরণা, জীবিকার উৎস, দৈনন্দিন হাসি-কান্না ও ভাগ্যলিপির নানা অধ্যায় এই নদী। নয়া মানুষ মূলত নদীর চরে বসবাসরত মানুষের গল্প। ভাসতে ভাসতে মানুষ এক চর থেকে আরেক চরে চলে যায়। নতুন মানুষ চরে এলে তাদের কী রকম সংকট বা সমস্যার সৃষ্টি হয়, তা নিয়েই সিনেমার গল্প। এর মধ্যে প্রেম, প্রকৃতি, ভালোবাসা ও জীবনদর্শনের বিষয়ও থাকছে।
আ মা ম হাসানুজ্জামানের ‘বেদনার বালুচর’ গল্প অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে ‘নয়া মানুষ’। চিত্রনাট্য লিখেছেন মাসুম রেজা। শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই ইউনিটের সঙ্গে ছিলেন রওনক। প্রথম লটের কাজ শেষ করে তিনি ফিরেছেন ঢাকায়। আবার যাবেন কয়েক দিন পর। আর মৌসুমী শুটিং শুরু করেছেন গত মঙ্গলবার থেকে। সিনেমায় আরও আছেন আশীষ খন্দকার, বদরুদ্দোজা, শিখা কর্মকার, স্মরণ সাহা প্রমুখ।
‘নয়া মানুষ’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রওনক হাসান বলেন, ‘বানভাসি এক মানুষের গল্প। ঘূর্ণিঝড়ে নিজের বাড়িঘর সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষটা ভাসতে ভাসতে অচেনা-অজানা এক চরে গিয়ে ওঠে। সেখানে সে নয়া মানুষ। এই মানুষটাকে নিয়েই গল্প। শেষ দুই দিন জ্বরের অভিনয় করে বাড়ি ফিরে সত্যিই প্রচণ্ড জ্বরে পড়ে গেছি। প্রখর রোদ আর বৃষ্টিতে কষ্ট হলেও শুটিং ভালো হয়েছে।’
নির্মাতা জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে ‘নয়া মানুষ’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর।