পিরোজপুরে পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা চাওয়ায় গত বুধবার মধ্যরাতে পিরোজপুরের জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্কুর নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খুন হওয়া জিয়াউল ইসলাম জিকু (৩০) নাজিরপুর উপজেলার উদয়তারা এলাকার দলিল উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি পৌর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে মাছের ব্যবসা করতেন।
জিকুর স্ত্রী লিমা আক্তার জানান, জিকুর সঙ্গে ভাতিজা মামুনের আর্থিক লেনদেন ছিল। কয়েক মাস আগে ভাতিজা মামুনের কাছে জিকু পাওনা টাকা চাইলে তাঁর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় মামুন একটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন লোক নিয়ে বাসায় গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। এরপর রাত ১২টার দিকে জিকু বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের কাছে হাজী বিরিয়ানি হাউসের সামনে এলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাইপো মামুন ও তাঁর তিন সহযোগী শুক্কুর, পলাশ ও সুবেল শিকদার তাঁর ওপর হামলা চালান। আহত অবস্থায় জিকুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন বলেন, ‘হত্যাকারী মামুন বিভিন্ন সময় জিকুর কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে একাধিকবার তাঁকে মারধর করেছেন। আমার ভাই পিরোজপুরের মধ্যরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মাছের ব্যবসা করতেন। সে রাতে ব্যবসা গুছিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আমার ভাই মোড়েলগঞ্জের হোগলাপাশা এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে মামুন হঠাৎ বিরিয়ানি খেতে দোকানে ডাক দেন। সে এগিয়ে গেলে কিছু বোঝার আগেই পেছন থেকে দা দিয়ে কোপ দেন মামুন। পরে সিআই পাড়া এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে সজীব মীর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানাই।’
ওসি আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই পিরোজপুর সদর থানা-পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’