বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দুটি ছবি। একটি সাইদুল আনাম টুটুলের জীবনের শেষ ছবি ‘কালবেলা’, অন্যটি নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা নিয়ে নির্মিত ‘কালবেলা’ সরকারি অনুদান পায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। ছবির শুটিংয়ের শেষ পর্যায়ে এসে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর মারা যান নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল। এটাই ছিল এই গুণী নির্মাতার শেষ ছবি। রেখে যাওয়া স্বপ্ন পূরণে হাল ধরেন তাঁর সহধর্মিণী মোবাশ্বেরা খানম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একজন নারীর সংগ্রামের গল্প ‘কালবেলা’। এ প্রসঙ্গে মোবাশ্বেরা খানম বলেন, ‘যুদ্ধের ভয়াবহতাকে প্রত্যক্ষভাবে আনতে চায়নি টুটুল, সেটিকে পরোক্ষ রেখে সাধারণ মানুষের আকস্মিক বিপর্যয় ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিকে বড় করে দেখাতে চেয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় নারীর নারীত্বই যে তাঁকে আরও বেশি বিপন্ন করে তোলে, সেটি ওর ভাবনায় স্থান পেয়েছিল।’
‘কালবেলার’ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাহমিনা অথৈ, শিশির, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লুৎফর রহমান জর্জ, জুলফিকার চঞ্চল প্রমুখ। প্রযোজক মোবাশ্বেরা খানম। সংগীত পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ।
একই সঙ্গে আজ মুক্তি পাচ্ছে নুরুল আলম আতিকের ছবি ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। এ উপলক্ষে গতকাল ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ছবির প্রিমিয়ার শোর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির নির্মাতা, অভিনেতা, কলাকুশলী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এ ছবিও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। নির্মাতা নুরুল আলম আতিক জানিয়েছেন, বিহারি অধ্যুষিত অবরুদ্ধ একটি শহরের গল্প লাল মোরগের ঝুঁটি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এসেছে শহরের এয়ারপোর্ট মেরামতের কাজে। শহরে বাস করে অল্প কয়েকটি বাঙালি পরিবার। মুক্তিকামী এই বাঙালি পরিবারের অন্তর্গত যুদ্ধের গল্প এটি। মোরগের ডাকে যেমনি অন্ধকার শেষে নতুন ভোরের বার্তা দেয়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও তেমনি এক বার্তা দেয়। সেই বার্তা, সেই সময়ে বাঙালির অন্তর্গত যুদ্ধের কথা বলতে চেয়েছেন নির্মাতা।
ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, ভাবনা, অশোক ব্যাপারী, শিল্পী সরকার অপু, জ্যোতিকা জ্যোতি, স্বাগতা, জয়রাজ, লায়লা হাসান প্রমুখ। পাণ্ডুলিপি কারখানার ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মাতিয়া বানু শুকু। সংগীত করেছেন রাশেদ শরিফ শোয়েব।