নদীর ওপর ব্রিজ না থাকলে এপার-ওপার পারাপারে নৌকাই ভরসা। কিন্তু সেই নৌকা এবার বসানো হয়েছে ইট-বালির রাস্তার ওপর। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দোলাইরপাড়ের রাস্তার দুই পাশে পারাপারের জন্য নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক ফুট ওভারব্রিজ। যা পর্যটনপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। উপলক্ষ হয়ে উঠেছে বিনোদনের।
নৌকা আকৃতির ওভারব্রিজটি দেখতে প্রতিদিনই দোলাইরপাড়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। সন্ধ্যা হলে আরও বেশি মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মধ্যরাত পর্যন্ত থাকে জনসমাগম। ব্রিজে দাঁড়িয়ে কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছেন। কেউবা আবার সেলফি তুলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুরাইন ও দোলাইরপাড় প্রায় মাঝামাঝি স্থানে নির্মিত ওভারব্রিজটি ১০ অক্টোবর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় দুই বছর আগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ ফুট। নৌকা আকৃতির হওয়ায় এলাকাবাসী এর নাম দিয়েছেন নৌকা ব্রিজ।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ওভারব্রিজটি অফহোয়াইট রং করা। এর নিচের ফুটপাতের লোহার বেড়াও একই রঙের। ফলে অনেক দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে যে কারও। আর রাতে এর চেহারা যেন বদলে যায়। রং-বেরঙের বাতির আলোতে মোহনীয় হয়ে ওঠে ব্রিজটি। এলাকার মানুষ বিনোদন পেতে ছুটে আসছেন এই ওভারব্রিজে।
শিশুসন্তান নিয়ে আসা মো. রনি জানান, এলাকায় বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই সময় পেলেই নতুন এই অত্যাধুনিক ওভারব্রিজে ঘুরতে আসেন। তিনি বলেন, ‘ব্রিজটির কারণে এই এলাকার চিত্র বদলে গেছে। এটি মানুষ পারাপারের জন্য তৈরি করা হলেও রূপ নিচ্ছে বিনোদনকেন্দ্রে।’
তবে রাস্তা পারাপারেই এটি মুখ্য ভূমিকা রাখবে জানান স্থানীয় বাসিন্দা শায়লা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এখানে ওভারব্রিজটির দরকার ছিল। কারণ, সড়কটি ব্যস্ততম হওয়ায় পার হওয়া কঠিন। এপার থেকে রাস্তার ওপার যেতে আধা কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হতো। এখন আর ঘুরতে হয় না। রাতে আধুনিক বাতি জ্বলায় এর চেহারা সবার দৃষ্টি কাড়ছে।’
তবে অদূর ভবিষ্যতে যেন এই ব্রিজ মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পরিণত না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর রাখতে হবে বলে মত দেন শায়লা।