ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র শবে কদর বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাত। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যমতে, রমজানের শেষ দশকের
যেকোনো বিজোড় রাতই শবে কদর হতে পারে। তবে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদের মতে, অধিকাংশ সময় ২৬ রমজানের দিবাগত রাত তথা রমজানের ২৭তম রাতই শবে কদর হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দয়া ও ক্ষমার আরজি পেশ করেন।
সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস এত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ এই শবে কদর। এই রাতেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়েতের বার্তাবাহী পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। এ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং কোরআনের আলোকিত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে রাতটিকে এত সম্মানিত করা হয়েছে। একজন মানুষ সহস্র মাসব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকলে যে পুণ্য লাভ হয়, এই এক রাতের ইবাদতেই তিনি সমপরিমাণ পুণ্য লাভ করবেন। পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে, এই রাতে রহমতের ফেরেশতারা শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে পৃথিবীর বুকে নেমে আসেন এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত মানুষের মাঝে আল্লাহর রহমত বিতরণ করেন।
শবে কদরের বরকত অনুসন্ধানের জন্যই রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের বিধান প্রণীত হয়েছে। যাতে মুসলিমরা, বিশেষ স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে পবিত্র এই রজনীর মহিমা ও কল্যাণ অনুসন্ধানে ব্রতী হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। আর শবে কদরের জন্য বিশেষ কোনো দিন নির্দিষ্ট করে না দিয়ে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি করতে এবং তাঁর রহমত লাভের চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পুরো রমজানেই বেশি বেশি ইবাদতে মগ্ন থাকেন; বিশেষ করে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদরের বরকত ও কল্যাণ অন্বেষণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সর্বাত্মক চেষ্টা করেন।
পবিত্র শবে কদর আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ অনুসন্ধানের বার্তা দেয়। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর তাগিদ দেয়। দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং পবিত্র কোরআনের অপূর্ব নির্দেশনা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার শিক্ষা দেয়। পাপাচারের পথ পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের সবক শেখায়। কৃত পাপের জন্য অনুশোচনার উপলব্ধি নিয়ে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে কোনো লজ্জা থাকতে নেই—মহান আল্লাহ পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়।
আমাদের কর্তব্য হলো, পবিত্র শবে কদরের শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে সমাজকে সব ধরনের বর্ণবৈষম্য ও অপরাধ-নৈরাজ্যের কলুষতা থেকে মুক্ত করা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ ও শান্তিময় সুস্থ-সুন্দর এক পৃথিবী গড়ে তোলা। পবিত্র শবে কদর পুণ্যময় হোক এবং কল্যাণে-কল্যাণে ভরে উঠুক সবার জীবন—এই আমাদের প্রার্থনা।