পাইকগাছায় ট্রাকচাপায় আহত হওয়ার সাড়ে ৯ মাস পর মারা যান ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৭) নামের এক যুবক। গত ৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১০ মাস পর উপজেলা জুডিশিয়াল আদালতে হত্যা মামলা করেছেন শুভর পিতা গোলাম রব্বানী। আদালত মামলাটি আমলে নিতে পাইকগাছা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে আটটায় গজালিয়া গ্রামের গোলাম রব্বানীর পুত্র ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৭) পাইকগাছা পৌরসভার চারা বটতলায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলের ওপর বসে ছিলেন। তখন একটি ট্রাক সামনে থেকে শুভকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে শুভ মারাত্মক আহত হলে স্থানীয় লোকজন ও থানা-পুলিশ শুভকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। শুভর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে ওই রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পুলিশ ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শুভর পিতা জানিয়েছেন, নারীঘটিত কারণে শুভর সঙ্গে ওই ট্রাক ড্রাইভার পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনিচুর রহমানের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। যা একাধিকবার সালিস করেও কোনো সমাধান হয়নি। তারই জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছি।
শুভর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পিতা গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৪ নভেম্বর ট্রাক ড্রাইভার আনিচুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী শিরিনা আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলার আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে গত ২ ডিসেম্বর মামলাটি আমলে নিতে পাইকগাছা থানাকে নির্দেশ দেন।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, আদালত থেকে নির্দেশ পেয়ে মামলার এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার শুভর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।