নওগাঁয় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চার দিন ধরে দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা মিলছে না। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ।
নওগাঁর বদলগাছীর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলায় গতকাল বুধবার সকালে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় নওগাঁর পথঘাট। শীতের কারণে অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবীরা শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হয়েছেন। শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষ শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে বাড়ির আঙিনা ও ফুটপাতসহ চায়ের দোকানের চুলায় বসে আগুন পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনের তুলনায় রাতে শীত বাড়ছে কয়েক গুণ। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় শিশু ও বৃদ্ধরা। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদিপশুরও।
শৈলগাছি গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর হেলাল মিয়া বলেন, ‘তিন দিন ধরে খুব কুয়াশা পরতেছে, সঙ্গে কনকনে শীত। কাম-কাজ করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। শরীর টাঁটাচ্ছে। আগুনের তাপ দিয়েও শীত যাচ্ছে না।’
রিকশাচালক শাহজাহান আলী বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় কিছু দেখা যাচ্ছে না, লাইট দিয়ে চলতে হচ্ছে।
তাজের মোড় এলাকার চাতালশ্রমিক আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সকাল আর রাতে বেশি ঠান্ডা লাগচ্ছে। ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখাই নাই। সূর্য না ওঠায় চাতালে কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা খাব কি? সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে না খেয়ে থাকতে হবে।’
এ বিষয়ে নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চপর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, বুধবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সপ্তাহে তাপমাত্রা ছিল ১২-১৫ ডিগ্রির ঘরে। দিন দিন তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীত বাড়ছে। তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।