চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কের উন্নয়নকাজে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে জাইকার অর্থায়নে চলে ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি কালভার্ট ও ৮টি সেতু নির্মাণের কাজ। বর্তমানে সেতু-কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। এখন সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। এই সংযোগ সড়কের কাজে বালির পরিবর্তে অবাধে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কের মিরসরাই-ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তে দেখা যায়, বালুটিলা এলাকার সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে শত শত ট্রাক পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে ওই সড়কের ফটিকছড়ি উপজেলার বড়বিল বাজারের মসজিদের পাশের কালভার্টের সংযোগ সড়কেও ব্যবহৃত হচ্ছে পাহাড়ি মাটি। বাগান বাজার স্কুলের পাশে সংযোগ সড়কের জন্য কয়েকশ ট্রাক পাহাড়ি মাটি এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, এই সড়কের কাজে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের নিয়ম নেই।
এই উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়ামের (সিপিসিএল) প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সাইফুর রহমান বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল হওয়ায় সব জায়গার জমির মাটি ভেজা। তাই পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের সরবরাহকারীরা বালু পাচ্ছেন না। প্রকল্পের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্যই বালুর বদলে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, অনেক সময় রাস্তা ভরাটের কাজে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা যায়। তবে পাহাড়ের মাটিতে কাদার পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এই মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করলে সে রাস্তার স্থায়িত্ব কম হতে পারে। তাই যে মাটি রাস্তা নির্মাণে দেওয়া হচ্ছে তা আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।
তবে এ প্রকল্পে পাহাড়ি মাটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিএম) প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী। তিনি আজকের পত্রিকার কাছে দাবি করেন, এখানে জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিনুল হাসান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।’
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মফিজুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়কের উন্নয়নকাজে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা আইনের লঙ্ঘন। পাহাড় কেটে রাস্তার উন্নয়নকাজ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হবে।