দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকসংকট আর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। ফলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার মানুষ।
জানা গেছে, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালকের পদসহ চিকিৎসক পদের সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়কসহ শূন্য পদের সংখ্যা ৪০। ১০ সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। ১৩টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে আছেন ৫ জন। হাসপাতালে নেই কোনো কার্ডিওলজিস্ট। নেই নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ।
চারটি অ্যানেথেসিওলজিস্টের ৪টি পদই শূন্য। একজন মাত্র জুনিয়র কনসালট্যান্ট দিয়ে চলছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম। জরুরি বিভাগে ৪ জন মেডিকেল কর্মকর্তার পদ থাকলেও নেই ১ জনও।
৯ জন মেডিকেল কর্মকর্তার বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। হাসপাতালের একমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও দুই সপ্তাহ ধরে নষ্ট। নেই সিটিস্ক্যান ও এমআরআইয়ের মতো অত্যাধুনিক মেশিন।
হাসপাতাল সূত্রে জানায়, এ সত্ত্বেও শহরে যেকোনো দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষ এখানেই ভিড় করে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে শুধু বহির্বিভাগেই চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৫০ হাজার রোগী। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে ৫ হাজার ৩১৯ জন রোগী। আর ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ২৭৫ জন রোগী।
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য এসেছিলাম, কিন্তু এসে শুনি মেশিন নষ্ট। বাইরে করতে গেলে আমাকে ৮০০ টাকা দিতে হবে। আর এখানে আমি মাত্র ২২০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে পারতাম।’
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য সাংবাদিক ওয়াহেদুল আলম আর্টিস্ট বলেন, হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর জন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ভবন বাড়ানোর কাজ চলছে। শিগগির ১০ বেডের আইসিইউ চালু করা হবে। বাকি সমস্যাগুলোরও সমাধানের চেষ্টা চলছে।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালক ডা. নজমুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকসংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ওয়ারেন্টি থাকায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি মেশিন হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। আরও দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের জন্য চাহিদা দেওয়া হয়েছে। কিছু সমস্যা সত্ত্বেও আন্তরিকভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় এখানে রোগীরা ভালো সেবা পাচ্ছেন।’