অনিলের লাশ পড়ে আছে। অন্ধকার ঘরে লাশটির পাশে এক আলমগীর ছাড়া কেউই নেই। এমন ভোররাতে ভিন্ন ধর্মের এক বৃদ্ধের লাশ নিয়ে তিনি কী করবেন, কীভাবে করবেন সৎকার, অনিলের চিকিৎসায় গত কয়েক দিন এমনিতেই তাঁর ওপরে অনেক ধকল গেছে। এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে আলমগীর হঠাৎ বুঝতে পারলেন, ভোরের আলো ফুটেছে, চারদিকে কত আলো, অথচ এ গ্রামের মানুষেরাই বুঝি অন্ধকারে। অনিল যখন অসুস্থ ছিলেন এক বউ আর তিনি ছাড়া আর কেউ তো এগিয়ে আসেননি। এখন সৎকার করার জন্য হলেও তো স্বজাতির কাউকে ডাকতে হবে।
আলমগীর তাঁর প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ডাকলেন। কিন্তু করোনায় অনিল চন্দ্র দাসের (৭৫) মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে কেউই এগিয়ে এলেন না। এদিকে ভোরের আলোর তেজ বাড়তে বাড়তে দুপুর গড়িয়েছে। তা-ও এল না কেউ। একপর্যায়ে স্থানীয় গণ্যমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে মৃত্যুর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টায় অনিলের মরদেহটির সৎকার করা হয়।
গতকাল ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এমন ঘটনা ঘটে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ওই গ্রামের মুসলিমরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন অনিল। নিঃসন্তান থাকায় আপন বলতে এক স্ত্রী ছাড়া আর কেউই বেঁচে নেই তাঁর।
অনিলের অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে গত শনিবার তাঁকে বাড়ি নিয়ে ফেরেন আলমগীর। গতকাল রোববার ভোর ৫টায় সেই বাড়িতেই অনিলের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমন ঘটনা শুনে আমি আলমগীরের বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউই নেই। এরপর সৎকারের জন্য হিন্দু কয়েকজন লোক ঠিক করে দিই। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় শ্মশানে অনিলের সৎকার হয়।’
এ বিষয়ে কাচিয়া রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মিল্টন বলেন, অনিল অনেক ঋণ করেছিলেন। হয়তো এ জন্যই হিন্দুদের কেউ এগিয়ে আসেনি।