শীতের শেষে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে ফেব্রুয়ারি। বাহারি ফুল গায়ে মেখে চোখজুড়ানো সাজে নিজেকে সাজায় প্রকৃতি। আবার এই ফেব্রুয়ারিতেই ভালোবাসার নহর পায় নব উদ্যমের স্রোত। প্রতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি চকোলেটের বাক্স, প্রিয়জনের প্রিয় উপহার আর ভালোবাসার বার্তা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভালোবাসার উৎসব উদ্যাপন করে লাখো মানুষ।
কিন্তু যার জন্য এমন একটি দিন পাওয়া গেল, সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এখন কোথায় আছেন? তৃতীয় শতকে ফেব্রুয়ারির কোনো এক সময় বিয়ের ওপর রোমান নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করায় ক্যাথলিক ‘শহীদ’ সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর দেহাবশেষ কোথায় আছে? এক প্রতিবেদনে সেই রহস্যের গল্প জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
ইতালির তার্নি শহরের বাসিন্দা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আসল দেহাবশেষ কোথায় রয়েছে, তা আজও স্পষ্ট নয়। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে একটি গির্জায় তার ‘হার্ট’ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইতালির রোমের খ্রিষ্টীয় গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত একটি অট্টালিকায় রয়েছে তাঁর মাথার খুলি। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর ভিক্ষু-আশ্রমের একটি সোনার বাক্সে বসে আছেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।
এখানেই শেষ নয়, তাঁর কাঁধের হাড় দেখানো হচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্রের গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত একটি অট্টালিকায়। এ ছাড়া স্পেনের মাদ্রিদের একটি গির্জায় কাচে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের দেহাবশেষ। জন্মভূমি তার্নি শহরের কথা তো বলাই হলো না। সেখানে তাঁর দেহাবশেষ রয়েছে ‘ব্যাসিলিকা ডি সান ভ্যালেন্টিনো’ নামক অট্টালিকায়। ধারণা করা হয়, এর প্রথম সংস্করণটি ভ্যালেন্টাইনের সমাধির ওপর নির্মিত হয়েছিল।
এর মধ্যে ঠিক কোন জায়গায় সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের প্রকৃত দেহাবশেষ রয়েছে, তা এখনো এক বড় রহস্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের মত না থাকায় যুগ যুগ ধরে ভ্যালেন্টাইনকে ঘিরে থাকা গভীর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। গল্পটা এতটাই ঘোলাটে যে একজন স্বীকৃত সাধু হওয়া সত্ত্বেও ১৯৬৯ সালে তাঁকে সাধারণ রোমান ক্যালেন্ডার থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁর জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
তবে ইউরোপের যে প্রান্তেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন শুয়ে থাকেন না কেন, প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রিয়তম আর প্রিয়তমার মনে থাকবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের অবাধ বিচরণ।