মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ডিসকভার মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে যশোরের মনিরামপুরের পাড়দিয়া গ্রামে আসেন তিন চোর। রাস্তায় মোটরসাইকেল রেখে গ্রামের মুকুল হোসেনের বাড়ি ইঞ্জিনভ্যান চুরি করতে ঢোকেন তাঁরা।
তালা ভাঙার শব্দে জেগে যান ভ্যানের মালিক মুকুল। তাঁর চিৎকারে জেগে ওঠেন মুকুলের দুই ছেলে রাকিব ও সাকিব। তাঁরা দৌড়ে পেছন থেকে ভ্যান টেনে ধরেন। কিন্তু ভ্যান রক্ষা করতে পারেননি। তিন চোর ইঞ্জিনভ্যানটি চালিয়ে পালিয়ে যান।
মুকুল ও তাঁর পরিবারের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। এসে দেখেন রাস্তায় একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। পাশে রয়েছে তালা ভাঙার লোহার নানা সামগ্রী ও নোটবুক।
পাড়দিয়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ‘বুধবার সকালে থানায় খবর দিলে পুলিশ একটি ডিসকভার ১০০ সিসি (যশোর-হ ১৩-০১৫৮) মোটরসাইকেল, চোরদের ফেলে যাওয়া জুতা, নোটবুক ও চুরি করার যন্ত্রপাতি হেফাজতে নেন। নোটবুকে কয়েকজন ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর রয়েছেন।’
এ দিকে মঙ্গলবার সকালে নিজের ইঞ্জিনভ্যান রাস্তায় রেখে গাছে ডাব পাড়তে ওঠেন উপজেলার সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের জবেদ আলী। তিনি গাছে থাকা অবস্থায় তিন চোর এসে ভ্যানটি নিয়ে গেছেন। সারা দিন খোঁজাখুঁজি করে ভ্যান না পেয়ে বুধবার সকালে থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি।
জবেদ আলী বলেন, ‘আমি ভ্যানে করে ডাব বেচি। নারকেল গাছে থাকা অবস্থায় দেখছি তিনজনে ভ্যান নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে চিৎকার দিয়ে নেমে আসতে আসতে ভ্যান নিয়ে ওরা চলে গেছেন। রাস্তায় লোকজন না থাকায় কাউকে ধরা যায়নি।’
মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমেন বিশ্বাস বলেন, ‘এটা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। মোটরসাইকেল ও নোটবুকের মোবাইল নম্বর ধরে চক্রটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।’