‘কখনো ভাবিনি ঘুষ ছাড়া আমার মেয়ের চাকরি হবে। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হলো। আমরাও চিন্তামুক্ত হলাম।’ এই বলে আনন্দে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত বাগেরহাটের জুইয়ের দরিদ্র বাবা মো. জিল্লুর রহমান।
গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় মেয়ের চাকরির খবরে আপ্লুত মো. জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘সব সময় চেয়েছি আমার মেয়েরা কিছু করুক। ছেলে নেই তো কি হয়েছে। আল্লাহ মেয়ে তো দিয়েছেন। তাই চরম আর্থিক অনাটনের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে মেয়েদের পড়াশুনা চালিয়ে এসেছি। কিন্তু মেয়েদের চাকরি নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। কারণ আমার টাকাও নেই, আবার বড় কোনো আত্মীয়স্বজনও নেই। তারপরও আল্লাহর রহমতে মেধার জোরে আমার মেয়ের চাকরি হয়েছে। কোনো প্রকার সুপারিশ বা ঘুষ ছাড়া চাকরি দেওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
শুধু জুই নন, কনস্টেবল পদে বাগেরহাট জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১ জনের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিনা পয়সায় চাকরি পেয়ে খুশি তাঁরা। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের নাম ও রোল নম্বর ঘোষণা করলে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় নতুন পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে।