কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে পরিবেশের ছাড়পত্রহীন পাথর ভাঙার যন্ত্র বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অর্ধশতাধিক পাথর ভাঙার যন্ত্র বন্ধ ও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চারজন মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।
অভিযান শেষে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাথর ভাঙার মিলের পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র নেই। ফলে, এটা হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী। এ ছাড়াএসব প্রতিষ্ঠানের কোনো সীমানা দেয়ালও নেই। এতে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এসব এলাকায়। তাই অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও ক্রাশার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পাথর ভাঙার কারণে চারটি স্টোন ক্রাশার মিলকে ৫০ হাজার করে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে অর্ধশত স্টোন ক্রাশার মিল বন্ধ করে কিছু যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা হয়।
এদিকে নোটিশ না দিয়েই পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছে অভিযোগ করে এর বিরোধিতা করেছেন মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিকেরা।
এ ব্যাপারে ভোলাগঞ্জ ক্ষুদ্র পাথর ব্যবসায়ী ও মিল মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বলেন, নোটিশ ছাড়াই অনেকগুলো মেশিনের যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
অপরদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ক্রাশার মেশিনের কালো ধোঁয়া, পাথরের ডাস্ট পড়ে ভোলাগঞ্জের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের মধ্যে মালবাহী ট্রাক পাথর লোড-আনলোড করে থাকে। এ কারণে জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই তাঁরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।