সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে টেকনাফের মারিশবুনিয়ার মইন্যা পাহাড়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি পাহাড়ে অবস্থানকালে বারবার আসামিরা ডাকাত এসেছে বলে মসজিদের মাইকে প্রচার চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার মামলার দশম সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলাম কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনার বর্ণনা দেন।
জহিরুল ইসলাম মারিশবুনিয়া এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তিনি আদালতে বলেন, আসামি মো. আয়াছ, নাজিম উদ্দিন ও নুরুল আমিন মেজর সিনহাকে ডাকাত সাব্যস্ত করে মাইকে প্রচার করলে তাতে তিনি বাধা দেন। তিনি আসামিদের বলেন, পাহাড়ে যারা আছেন তাঁরা সেনাবাহিনীর লোক, ডাকাত নন।
হাফেজ জহিরুল ছাড়াও এ মামলার তৃতীয় দফার শুনানির দ্বিতীয় দিনে সিনহার লাশের ময়নাতদন্তের চিকিৎসক ডা. রণধীর দেবনাথের জবানবন্দি ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন করা হয়। শুনানির সময় ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, হাফেজ জহিরুল ইসলাম এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তিনি মেজর সিনহাকে মারিশবুনিয়া পাহাড়ে আসামিদের হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি আদালতে বলেছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরার মুখেও তিনি অনড় ছিলেন। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন।
ওসি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত বলেন, অভিযোগপত্রে দেওয়া বর্ণনার সঙ্গের সাক্ষীর জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মিল নেই।