কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৫ বছরেও আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে শৃঙ্খলা এবং খাবারের দামে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে খাবারের নিম্মমানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে বাকি দুটি হলের ডাইনিং সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরের দোকানে খাবার খাচ্ছেন।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বন্যা বলেন, ‘হলের ডাইনিংয়ে ভর্তুকি খুবই দরকার। এখন মিল সিস্টেমে খাবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ না থাকায় দুই দিন পর পর খাবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অসুবিধায় পড়তে হয়।’
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ঘর থেকে এসেছি। ভর্তুকি দেওয়া হলে আমাদের উপকার হবে।’
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন মাসিক দায়িত্ব দিয়ে ডাইনিংগুলো পরিচালনা করছেন। অনেক সময় মাসের মধ্যখানে এমনকি শুরু করার চার-পাঁচ দিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলেও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আনসারদের অস্থায়ী ক্যাম্প থাকায় বন্ধ পড়ে আছে ক্যাফেটেরিয়াটি। ফলে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আল নাইম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হলেও ডাইনিং চালু না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি অনেকেই ইলেকট্রিক হিটারে রান্না করে যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।’
রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা এ বিষয় নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্তে উপনীত হব। শিক্ষার্থীরাও হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে।’
হলের ডাইনিংয়ে ভর্তুকির ব্যাপারে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ইউজিসিতে আমরা এ বিষয়ে বলেছি। কিন্তু ইউজিসি হলের ভর্তুকি বাবদ কোনো টাকা আমাদের দেয় না। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তুকি দিচ্ছে সেগুলো নিজস্ব আয় থেকে দেয়। কিন্তু আমাদের সেরকম আয় নেই।’