বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই মার্চে। বৈঠকে বাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় লন্ডন। আর এ বৈঠক থেকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। দুই দেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক বৈঠকের পরপরই সামরিক খাতে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ঢাকা আসবেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী বলেন, বৈঠকটি দুই দেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের দিক থেকে প্রাধান্য পাবে। আর যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে যৌথ প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
ঢাকায় যুক্তরাজ্যের এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বৈঠকে তিনটি খাতে আলোচনা হবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তাতে যুক্তরাজ্যের অন্যতম আগ্রহের বিষয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের সামরিক খাতে সহযোগিতা; যেখানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীতে
সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো থাকবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ৪ নম্বরটি আসছে, যেটি বাংলাদেশ কিনেছিল।
ওই কূটনীতিক বলেন, আরও কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে খবর হয়েছে যে যুক্তরাজ্য থেকে যুদ্ধজাহাজ কেনার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য একত্রে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে যুক্তরাজ্যের, যাতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়তে পারে।
সূত্র জানায়, আগামীকাল ২ মার্চ দুই দেশের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসছে। যুক্তরাজ্যের দিক থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক ডমিনিক উইলসন বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুটি আলোচনায় আসবে। সেখানে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান তুলে ধরবে। সেই সঙ্গে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে সামরিক দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইবে যুক্তরাজ্য।