নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন গাছিরা। চলছে গাছের কাণ্ড কাটা ও কাঠি বা নলি বসানোর কাজ। বর্তমানে খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দিন দিন এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমির আইলে ও রাস্তার পাশে লাগানো খেজুরগাছের মাথার অংশ থেকে ডাল কেটে পরিষ্কার করছেন গাছিরা। হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে গাছিরা কাজ করছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন গাছে রস আহরণের জন্য বাঁশের তৈরি নলি বসাতে শুরু করেছেন। ক’দিন পর রস নামাবেন গাছিরা।
জানা গেছে, বর্তমানে খেজুরগাছ প্রস্তুত করা হচ্ছে, এক সপ্তাহ পরে আবার হালকা চেঁছে বাঁশের তৈরি নল লাগানো হবে। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।
বর্ষাইল গ্রামের গাছি তোতা মিয়া বলেন, ‘প্রথমে খেজুরগাছের মাথার অংশকে ভালো করে কেটে পরিষ্কার করা লাগে। এরপর পরিষ্কার সাদা অংশ কেটে রস সংগ্রহ করা হয়। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করি।’
আত্রাই উপজেলার গাছি রহমান আলী বলেন, ‘ক’দিন পর শীত শুরু হবে। এ জন্যে আমরা এখন থেকেই গাছ প্রস্তুত করছি। আগেভাগে চাঁচ দিলে শীতের শুরুতেই রস নেমে যাবে। আগাম গুড় ও পাটালি বানাতে পারলে লাভ বেশি হবে।’
মহাদেবপুরের গাছি তুহিন উদ্দিন বলেন, শীতের শুরুতেই তাঁরা খেজুরগাছের রস সংগ্রহ করেন। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রস নামলেই গুড় তৈরি করা শুরু হবে।
সদরের বাসিন্দা জোবায়ের আহম্মেদ বলেন, আগের মতো খেজুরগাছ এখন আর দেখা যায় না। চাষিরা এখন আর জমিতে আলাদা করে খেজুর গাছের চাষ করেন না। শুধু রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে কম-বেশি খেজুরগাছ দেখা যায়। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ ঐতিহ্য অনেকটায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, শীত এলেই গাছিরা রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেন। গাছের ওপরিভাগের নরম অংশ চাঁচ বা দা দিয়ে কেটে রস নামানো হয়। একবার গাছে চাঁচ দিলে দু-তিনি দিন রস পাওয়া যায়। সাধারণত খেজুরগাছ পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কাটা হয়, যাতে সূর্যের আলো সরাসরি ওই কাটা অংশে পড়তে পারে।