অভিনেতা সোহেল রানা ভাইয়ের হাত ধরে আমি চলচ্চিত্রে আসি। আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’ সিনেমায় অভিনয় করার আগে আমার চারটি সিনেমা সুপারহিট ছিল। আজিজ ভাইও আমার অভিনয় দেখেছিলেন। তিনি যখন ‘অশিক্ষিত’ সিনেমার পরিকল্পনা করছিলেন, তখনই ঠিক করেন, মূল নায়িকা হিসেবে আমাকে নেবেন। আজিজ ভাই ও সুরকার সত্য সাহা যোগাযোগ করলেন রাজ্জাক ভাইয়ের (নায়করাজ রাজ্জাক) সঙ্গে। রাজ্জাক ভাই বললেন, ‘আমি শুনেছি মেয়েটা খুব ভালো অভিনয় করে, খুব ভালো একজন নৃত্যশিল্পী, ওকে নিয়ে নাও।’ তাঁর সম্মতি পেয়ে সত্য দা ও আজিজ ভাই আমাকে ডাকলেন।
আমি গেলাম তাঁদের অফিসে। সেই সময় ‘অশিক্ষিত’ সিনেমার জন্য আমাকে ২০ হাজার টাকা সাইনিং মানি দিয়েছিলেন। এর আগে প্রতিটি সিনেমায় সাইনিং মানি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছিলাম। ‘অশিক্ষিত’ ছিল রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে একক নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা। ‘অশিক্ষিত’ আমার অভিনয়জীবনের একটা মাইলস্টোন সিনেমা হয়ে গেল। মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমাটি এত ব্যবসাসফল হয়, যা অকল্পনীয়। শুধু সিনেমা নয়, এর সব গানই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে’, ‘আমি যেমন আছি তেমন রব, বউ হব না রে’, ‘আমি এক পাহারাদার’—এসব গান এখনো সবার হৃদয়ে গেঁথে আছে।
পরবর্তী সময়ে আজিজ ভাইয়ের পরিচালনায় ‘ফুলেশ্বরী’ ও ‘মেহমান’—সিনেমায় অভিনয় করেছি। আরও দুটি সিনেমা করার কথা ছিল। কিন্তু আমি শিডিউল মেলাতে পারিনি।
অসুস্থ হওয়ার পর উনি কানাডাতেই বেশি থাকতেন। মাঝেমধ্যে কথা হতো, খোঁজখবর নিতাম। চলচ্চিত্রের প্রতি সারা জীবন তাঁর যে টান দেখেছি, সেটা অতুলনীয়। সবার প্রতি এত আন্তরিক ছিলেন, বলে বোঝানোর নয়। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। আজিজ ভাইকে কখনো রাগ করতে দেখিনি। আমাকে সব সময় বলতেন, ‘তোকে তো আর নতুন করে কিছু শেখানো লাগবে না। ভালো করে কাজ করবি কিন্তু।’
এত মেধাবী মানুষটি হঠাৎ চলে গেলেন। খবরটি শুনে সারা রাত আমি দু-চোখের পাতা এক করতে পারিনি। তাঁকে তো আর কখনো ফিরে পাব না। কিন্তু যেসব সৃষ্টি তিনি রেখে গেলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলা চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য সম্পদ হয়ে থাকবে।