মুক্তিযুদ্ধে আমি ঢাকার উত্তর বাহিনীতে ছিলাম। আমাদের কমান্ডার ছিলেন রেজাউল করিম মানিক ভাই। মানিকগঞ্জের একটি ব্রিজ অপারেশনে গিয়ে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। তখন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু আমাদের কমান্ডার হলেন। মানিকগঞ্জে আমাদের মেইন ক্যাম্প ছিল। ঢাকায় উত্তর বাহিনীর ছোট্ট একটা ইউনিট ছিল। যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখন আমি ওই ইউনিটটির দায়িত্বে ছিলাম। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর সময়টা আমি ঢাকাতেই ছিলাম। মাঝখানে আমি ক্যাম্পে গিয়েছিলাম যেদিন ভারত এয়ার অ্যাটাক করে। ডিসেম্বরের ২ বা ৩ তারিখ রাতে হবে সম্ভবত। তার আগের দিন একটা অপারেশনের পারমিশনের জন্য গিয়েছিলাম। আবার ফেরত চলে আসি।
আমরা যারা গেরিলা অপারেশন করেছি, যখন স্বাধীনতা এসেছে, তখন আমাদের কী আনন্দ আর কী ফুর্তি! সেই আনন্দে তো হাসি আসেনি। আমাদের সবার চোখের আর মনের ভাষা কী ছিল, সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। শুধু তাকিয়ে দেশটা দেখতাম। এখন যেমন বিজয় উদ্যাপন করি মাইকে হিন্দি গান ছেড়ে, ব্যাপারটি তো সেটা ছিল না। তখন ঢাকায় লোকও ছিল না তেমন। পাকিস্তানিরা কত লোক মেরে ফেলল! এর মধ্যে দেশের বাইরে ছিলেন অনেকে। পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই যে, ওই মুহূর্তটা প্রকাশ করা সম্ভব। যুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতা এমনই একটি বিষয়। সেই ভারতে যাওয়া, সেখানে ট্রেনিং নিয়ে অস্ত্র নিয়ে বর্ডারে ফাইট করা। তারপর সাভারে এসে থামলাম।
তারপর মেইন ক্যাম্প ও অস্ত্র বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া। প্রতি মিনিটে যে কী টেনশন, ভয় নিয়ে থাকতে হতো; সেটা আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। বিজয় এনেছি, বিজয় দেখেছি। কিন্তু যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁরা তো বিজয় দেখে যেতে পারেননি। স্বাধীন দেশ দেখে যেতে পারেননি। সে জন্য বিজয়ের মাসে শহীদদের কথা খুব মনে পড়ে।
(অনুলিখন)