মিঠাপুকুরে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রী অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার তার মৃত্যু হয়।
মৃত জান্নাতি আক্তার সাথী (১২) উপজেলার পূর্ব জয়রামপুর আনোয়ার গ্রামের রিকশাচালক মনছুর আলীর মেয়ে। সে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের শিকার হয়েছিল মেয়েটি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাথীকে প্রতিবেশী মতিয়ার রহমানের ছেলে লাবলু মিয়া (২০) উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি লাবলুর পরিবারকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং গত ১ সেপ্টেম্বর অস্ত্রের মুখে সাথীকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ লাবলুকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি রংপুর কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর লাবলুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের অনেকেই সাথীকে দেখলে টিপ্পনী কাটতেন, কটু কথা বলাবলি করতেন। পরে নিন্দা ও গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে সাথী কয়েক দিন আগে বড় বোনের শ্বশুর বাড়ি ভাংনী নাটাগাড়ী গ্রামে চলে যায়। কিন্তু সেখানেও তাকে কথা শুনতে হয়।
সাথী এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে গত শনিবার বিষপান করে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাথীর বাবা মনছুর আলী এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সাথীর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অভিযোগটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।