উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারী ও দিনাজপুরে গত তিন দিন ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। এতে শহর এবং গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। রিকশা, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে শ্রমজীবী ও দিনমজুরেরা পড়েছেন বেশি বিপাকে।
এদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, গত তিন দিন থেকে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। আগামী ২-৩ দিন এ অবস্থা বিরাজ করবে বলে জানান তিনি। এরপরে ঝড়-বৃষ্টির আশংকা রয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গরম সহ্য করতে না পেরে ছিন্নমূল মানুষ গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় খোলা আকাশের নিচে অসহ্য রোদের তাপে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না আগাম আলু চাষাবাদের কৃষি শ্রমিকেরা। শহরে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ফুটপাত থেকে আখের রস, লেবুর শরবত খেয়ে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন অনেকে।
ডিমলা শহরের রিকশাচালক আবুল হোসেন জানান, ‘আশ্বিন মাসে এমন কড়া রোদে রিকশা চালানো কষ্ট হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটে মানুষজন কম চলাচল করছে। অনেকে প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। গত দুই দিন থেকে সন্ধ্যার দিকে রিকশা নিয়ে বের হই।’
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর রহমান জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আবহাওয়া কিছুটা চড়া। দিনে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠা–নামা করছে। রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসে আদ্রতা ৭৫ শতাংশ। আগামী মাসের শুরুতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অমল রায় জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ের গরমে রোগবালাই থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে খোলা খাবার এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।