শিকল থেকে মুক্তি পেলেন নান্দাইলের মো. মিজান (২২)। গত সোমবার দিশারি বিডি সংগঠনের একটি দল তাঁকে শিকলবন্দী দশা থেকে মুক্ত করে। মিজান উপজেলার মুসল্লি ইউনিয়নের কাইয়াগাতি গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মিজান অত্যন্ত সহজ-সরল ছেলে ছিল। পারিবারিক আর্থিক অভাব অনটনে দিন পার করতে হতো। এ জন্য সংসারের হাল ধরেন মিজান। একপর্যায়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এতে পরিবারের নেমে আসে অশান্তির ছায়া।
মাদকে আসক্ত হয়ে নেশার টাকার জন্য মিজান মা-বাবাকে নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে পরিবারের লোকজন মিজানের হাতে-পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে তালা মেরে দেয়। তাঁকে রাখা হয় একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ বছর, শিকল খোলার ব্যবস্থা হয়নি।
কিছুদিন আগে মুক্তমনা লেখক আতাউর রহমান বাচ্চু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে শিকলে বন্দী মিজানকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। এতে প্রশাসন, সুশীল সমাজের নাগরিক, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তাঁর পোস্টটি ভাইরাল হয়। বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিশারি বিডির নজরে আসে। পরে দিশারি বিডির একটি দল মিজানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ছেলেটিকে এভাবে শিকলে বন্দী করে রেখেছে, তা আমি সহ্য করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করি।
এ বিষয়ে মো. মিজান বলেন, ‘আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। মাদক আর গ্রহণ করব না। আমাকে চিকিৎসা করান।’
মিজানের বাবা নুরু মিয়া বলেন, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলেটা মাদকাসক্ত হয়ে আমাকে অত্যাচার করত। বাধ্য হয়ে শিকলবন্দী করে রাখি। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে পারব না দেখে পাঁচ বছর পার হলেও শিকল খুলে দিইনি।’
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব উদ্যোক্তা দিশারি বিডির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনে মিজানকে শিকলবন্দী থেকে মুক্ত করি। আমাদের সংগঠন থেকে মিজানের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করব। পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’