গুলশান-২ এর পিংক সিটির একটি ছয়তলা ভবনের দোতলায় এসি বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আগুন লেগে দোতলার একটি বাসার শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বাসার জানালার কাচ ভেঙে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। আগুনে দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের জোন-৩ এর উপসহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১০৩ নম্বর রোডের ৩৮/এ ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা স্টেশনসহ ৮টি ইউনিট ছুটে আসে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুনে দগ্ধরা হলেন ডি এম রফিকুল ইসলাম রাজিব (৩৫), স্ত্রী মালিহা আনহা ঊর্মি (৩২), তাঁদের ছেলে মাসরুর মোহাম্মদ রাফিন (২), বাসার কাজের মেয়ে মনি (৩৫)।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনের দোতলার উত্তর দিকে থাকা একটি এসি বিস্ফোরিত হয়ে ছিটকে রাস্তায় এসে পড়ে। এতে বাড়ির সামনে পার্কিং করে রাখা একটি প্রাইভেট কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে ওই ভবনে থাকা অন্য এসিগুলোও বিকল হয়ে গেছে।
দগ্ধ রাজিবের মামা ইমদাদুল হক জানান, রাজিবরা বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকেন। রাজিব ঘটনার সময় ওই বাসাতেই ছিলেন। অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। এমন সময় এসি বিস্ফোরিত হয়।
ইমদাদুল হক আরও জানান, দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের প্রথমে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. আইউব হোসেন জানান, আগুনের কারণে মালিহার শরীরের ৭০ শতাংশ, শিশু মাসরুরের ৩০ শতাংশ, মনি আক্তারের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তা ছাড়া পায়ে সামান্য দগ্ধ হয়েছেন রাজিব।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান আরও বলেন, ‘আগুনের ঘটনা তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে। ভবনটির পুরোটাই আবাসিক। আগুনের ঘটনায় দোতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভবনের সব ফ্ল্যাটেরই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে।’