‘পৌনঃপুনিক’ ও ‘অঙ্গজ’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন নির্মাতা খন্দকার সুমন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃতও হয়েছে ‘পৌনঃপুনিক’। এবার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানালেন সুমন। নাম ‘সাঁতাও’। ১৫ সেপ্টেম্বর সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক।
অন্যান্য চরিত্রে আছেন মো. সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, সাক্ষ্য শাহীদ, শ্রাবণী দাস রিমি, চিনু প্রমুখ। এর আগে তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ সিনেমায় রুহুল চরিত্রে অভিনয় করেন ফজলুল। ‘জালালের গল্প’ ও ‘কালো মেঘের ভেলা’ সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি।
‘সাঁতাও’ মূলত রংপুর অঞ্চলের একটি শব্দ। মূলত সাত দিন ধরে যে বৃষ্টিপাত হয় (অবিরাম বৃষ্টিপাত হওয়ার সময়টাকে) সাঁতাও বলে। বৃষ্টির মধ্যে গৃহবন্দী এক মানুষের মনের ভাবটাই ফুটে উঠেছে ‘সাঁতাও’ সিনেমায়। তাই ইংরেজিতে সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘Memories of Gloomy monsoons’। ‘সাঁতাও’ মূলত মাটি আর মাতৃত্বের গল্প। সদ্য বিয়ে করা এক কৃষকের সারা বেলা কাটে খেতখামারে। একাকিত্ব ভর করে স্ত্রীর মাঝে। একাকিত্ব দূর করতে স্ত্রীর সঙ্গী হয় একটা গরু।
কৃষক আর কৃষকের বউ, সঙ্গে একটা গৃহপালিত পশু—তাদের ঘিরেই গল্প।
খন্দকার সুমন জানান, কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় আবর্তিত হয়েছে ‘সাঁতাও’। শুটিং হয়েছে রংপুর, লালমনিরহাট ও তিস্তা নদীর পাড়ে।
আইডিয়া এক্সচেঞ্জের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন শরিফ উল আনোয়ার সজ্জন। পরিচালনার পাশাপাশি এর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন খন্দকার সুমন। ‘সাঁতাও’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের শেষের দিকে।