‘আমি একজন শিক্ষক। প্রতিদিন মাদ্রাসায় যেতে হয় শিক্ষার্থীদের পড়াতে। এক মাস আগে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি। কিন্তু আজও কোনো খুদেবার্তা পাইনি। একাধিকবার হাসপাতালে গেলেও মোবাইলে বার্তা না আসায় কর্তৃপক্ষ টিকা দেননি আমাকে। নিজে সুরক্ষিত না হয়ে শিশুদের পড়াতে গেলে ওরাও ঝুঁকিতে থাকবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়।’
আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন যশোরের কেশবপুরের আবুল কালাম আজাদ নামে একজন শিক্ষক। তিনি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তাঁর মতো শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬০ হাজার মানুষ করোনার টিকার কবে খুদেবার্তা আসবে এই অপেক্ষায় মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে দিন পার করছেন। এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার জনের নিবন্ধনের বিপরীতে টিকা পেয়েছেন সাড়ে ২৮ হাজার নিবন্ধনকারী।
নিবন্ধন করা উপজেলার ৩ ভাগেরও বেশি মানুষ এখনো পাননি করোনার টিকা। হাসপাতালে বর্তমানে টিকা মজুত রয়েছে ৪ হাজার ৫২০ টি। এ দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন নিবন্ধন করা নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধনকারীকে টিকা দেওয়ায় এ কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ উপজেলায় প্রথম ডোজের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয় ৮ এপ্রিল।
করোনাভাইরাসের টিকা নিতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৩০০ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ও সিনোফার্মের প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ২৮ হাজার ৫২৩ জন। এদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৭২১ জন নিবন্ধনকারীকে। অর্থাৎ ১৯ হাজার ৭২১ জনকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩৯৮ জন নিবন্ধনকারীকে টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ হাজার ৫২০ ডোজ টিকা মজুত রয়েছে।
উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার শিক্ষার্থী কবির হোসেন বলেন, ‘গত ৬ আগস্ট করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করেছি। এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রথম ডোজের টিকা নিতে পারিনি। কবে পাব, এ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘করোনার টিকা কিছুদিন ছিল না। গত বুধবার নতুন করে টিকা এসেছে। শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। কেউ বাদ যাবেন না।’