১০ বছর ধরে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়ার কাজ করেন হাকোবা এলাকার কাকলী কুণ্ডু। স্বামী দিনমজুর। দুজনের কঠোর পরিশ্রমে ৬ জনের সংসার। ৮০০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করে এখন পান ২ হাজার ৫০০ টাকা। স্বল্প বেতনে তাঁর সংসারের চাকা ঘোরে অনেক কষ্টে। একই বেতনে নিয়মিত ৬ ঘণ্টা করে হাসপাতালে কাজ করেন ১১ জন। ৪ হাজার টাকা বেতনের দাবি নিয়ে গত শনিবার হাসপাতাল প্রধানের কাছে যান তাঁরা। হাসপাতাল প্রধানের সাড়া না পেয়ে তাঁরা কাজ ছেড়ে যান। গত রবি ও সোমবারও তাঁরা কাজে ফেরেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই দিন আয়ারা কাজে না আসায় অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতালের সব ওয়ার্ড। রোগীদের বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে হাসপাতালে। ময়লা জমেছে শৌচাগার ও হাসপাতালের মেঝেতে। টিকতে না পেরে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন কয়েকজন রোগী।
৫০ শয্যার মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছাড়া কোনো আয়া নেই। ৪-৫ বছর আগে রেজুলেশনের মাধ্যমে হাসপাতালে ১১ জন আয়া ও ওয়ার্ডবয় নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, ‘ওদের আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। করোনার পর হাসপাতালের আয় কমে যাওয়ায় সেটাও ঠিকঠাক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছিলেন উপজেলা থেকে নিয়মিত তাঁদের জন্য একটা বরাদ্দ রাখবেন। পরে সেটা কার্যকর হয়নি।’
মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প) থেকে স্বাস্থ্যখাতে কিছু বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ আছে। দ্রুত সেটা কার্যকর করা হবে।’