হোম > ছাপা সংস্করণ

নদী যেন অভিশাপ না হয়

সম্পাদকীয়

‘নদীর ধারে বাস তো ভাবনা বারো মাস’—নদীপারের মানুষ নিয়ে এ কথাটি আমাদের সমাজে প্রচলিত। বন্যা-পরবর্তী সময়ে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম নদীভাঙন। এ নিয়েই তাদের ভাবনা। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিলেও একটি পরিবারের ভিটেমাটি হয়তো রক্ষা পায়। কিন্তু নদীভাঙনে অস্তিত্বের শেষ সম্বলটুকু ‘নাই’ হয়ে যায়।

তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া জনপদের মানুষের হাহাকারের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আজকের পত্রিকায়। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মানুষ তিস্তার ভাঙনে আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। প্রতিবছর যেন অভিশাপ হয়ে তাদের কাছে ধরা দেয় নদীভাঙন।

মূলত নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক গতিতে হয় না। সে কারণে বর্ষাকালে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক বছর ধরে সারা দেশে নদীভাঙন ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো নির্বিচারে বালু উত্তোলন। দেশের প্রায় সব নদীতে এক দশকে যে পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে, নদীগুলো এখন যেন তীব্র ভাঙনের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে গড়ে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। যার বেশির ভাগ কৃষিজমি ও বসতভিটা। এমনও ঘটনা ঘটে, একই পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের কবলে পড়ে। এ কারণে নতুন করে আবার অন্য জায়গায় গিয়ে তাদের বসতবাড়ি নির্মাণ করার সামর্থ্য থাকে না। একসময় এসব পরিবার ছিন্নমূল হয়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হয়।

কোনোভাবেই নদী অভিশাপ নয়; বরং নদীকে কেন্দ্র করে সমাজ ও সভ্যতা গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই নদী অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

বন্যা ও নদীভাঙন তাদের কাছে অভিশাপ হিসেবে হাজির হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সব নদীকে যথার্থভাবে ব্যবহারোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলেছে। নদীকে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা করেছে। চীনের হোয়াংহো নদীকে একসময় চীনের দুঃখ বলা হতো। কিন্তু সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এ ছাড়া লন্ডনের টেমস, মিসরের নীল নদ—এসব নদ-নদীকে সেখানকার মানুষ অভিশাপের বদলে আশীর্বাদ হিসেবে রূপান্তর করেছে।

অস্বীকার করার সুযোগ নেই, সরকারের পক্ষ থেকে নদীভাঙন রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে খেসারত দিতে হচ্ছে নদীপারের মানুষদের। আর নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে।

নদীভাঙন রোধে এর স্বাভাবিক গতি সচল রাখতে ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। বালু উত্তোলনও কঠোরভাবে দমন করতে হবে। বালুখেকোরা ক্ষমতার দাপটে নিজেদের কাজ হাসিল করতে থাকে। দুঃখজনক হলো, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

নদীভাঙনের কারণগুলো যেহেতু অজানা নয় এবং সমাধানও সহজ, তাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই নদীর অভিশাপ থেকে নদীপারের মানুষদের রক্ষা করার পদক্ষেপ নেবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ