মুলাদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাওফিকা খাতুনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রীনা খান তাঁর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ করেন। তবে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর জাল ও টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের তদন্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
রীনা খান জানান, ২০২১ সালে বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার (স্লিপ) জন্য ওই বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাওফিকা খাতুনের হাতে তুলে দেন। প্রধান শিক্ষক কোনো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
চলতি বছর বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি রীনা খান ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক তাঁর স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
রীনা খান বলেন, ‘তাওফিকা খাতুনের ভাই নেয়ামত উল্লাহ মুলাদী শিক্ষা কার্যালয়ে সংযুক্ত (প্রেষণে) এ কাজ করেন। তাঁর সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।’
সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রীনা খান গত ৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। গতকাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান বিদ্যালয়ে তদন্তে যান।
প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) তাওফিকা খাতুন স্বাক্ষর জাল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়ম মোতাবেক কাজ হয়েছে। সভাপতি অহেতুক অভিযোগ করেছেন।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।