করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতির সময় এল ডিজেলের দাম বাড়ানোর খবর। একই সঙ্গে বেড়ে গেল ধানবীজের দাম। সব মিলিয়ে দিশেহারা কৃষক। এ অবস্থায় বেশি উৎপাদনের আশায় বোরো চাষে হাইব্রিড জাতের ধানে গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। জেলায় ৬১ শতাংশ কৃষক এবার চাষ করছেন হাইব্রিড জাত।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়েছে বীজতলা তৈরির কাজ। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ধানের চারা রোপণ শুরু হবে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২ লাখের বেশি কৃষক এবার ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করবেন। গত দুই বছর করোনার কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। তারপর এবার ডিজেল ও বীজের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হবে। তাই লাভের আশায় কৃষক এবার হাইব্রিড ধান চাষ করবেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ বছর ডিজেল ও বীজের দাম বেশি। ডিজেলচালিত সেচ মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিতে বেশি টাকা লাগবে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচও বেশি হবে।’ তাই আব্দুস সালাম চেষ্টা করছেন বেশি উৎপাদনের। আর সেই লক্ষ্যে হাইব্রিড ধানের দিকে ঝুঁকছেন।
বটিয়াঘাটা উপজেলার বুনারাবাদ গ্রামের চাষি মনোজ কুমার মন্ডল জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের বীজ দিয়ে আবাদ করবেন। গত মৌসুমে হাইব্রিডের উৎপাদন ছিল বিঘাপ্রতি ৪০ মণ। যদিও উচ্চফলনশীল জাতের বীজে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হয়নি।
নগরীর কালীবাড়ির খুলনা কৃষি স্টোরের মালিক সরোজিৎ মন্ডল জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ কেজি হাইব্রিড বীজ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বীজের দাম ২০০ থেকে ২৯০ টাকা। পারটেক্সের রাজলক্ষ্মী, এসিআইএর বিআরএস, সেরা, সিক্স, ব্র্যাকের সাথি, মোটা আলোড়ন, সুপার ব্রিডের সুবর্ণ ও মোটা হিরার চাহিদা বেশি। কৃষকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ৫০ শতকের প্রতি বিঘায় বিআর-২৮ জাত ২৫-৩০ মণ ধান হয়। সে ক্ষেত্রে একই পরিমাণ জমিতে হাইব্রিড জাত রোপণে ৪০-৪৫ মণ উৎপাদন হয়। ফলে লাভের আশায় কৃষক এদিকেই ঝুঁকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসের বলেন, ফলন বেশি হওয়ায় হাইব্রিড ধানের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতি হেক্টরে দেশি জাতের ধানে উৎপাদন হয় ৪ টনের মতো। আর হাইব্রিডে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৬ টনের বেশি। এ ছাড়া এই জাত লবণসহিষ্ণু। তাই কম খরচে বেশি উৎপাদন হয়।