বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে ১৬ প্রজাতির ৪৩টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং র্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর এলাকায় অবস্থিত চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে এসব বন্য প্রাণী উদ্ধার করে। বেআইনিভাবে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের অপরাধে চন্দ্রমহল ইকোপার্কের ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময়, র্যাব-৬ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার নূরই আলম সিদ্দিকি, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার, বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য, পরিদর্শক রাজু আহমেদসহ র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত বন্যপ্রাণীর মধ্যে একটি কুমির, ২টি চিত্রাহরিণ, ১টি হনুমান, ৫ টি বানর, ১টি ময়ূর, ২টি উটপাখি, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু ৫টি, ২টি কচ্ছপ, বক ৭টি, ২টি মাছমুতাল পাখিসহ ৪৩ টি প্রাণী রয়েছে। এ ছাড়া ৬টি হরিণের শিং, ৬টি চামড়া, একটি ভালুকের চামড়া, একটি ক্যাঙারুর চামড়া ও একটি তিমির কঙ্কাল জব্দ করেছেন র্যাব-৬ এর সদস্যরা। জব্দকৃত এসব প্রাণী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার নূরই আলম সিদ্দিকি বলেন, অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী রাখার অপরাধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে চন্দ্রমহল ইকোপার্কের ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদার জরিমানার টাকা নগদ পরিশোধ করায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বন্য প্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য বলেন, ‘বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সতর্ক রয়েছে। আমাদের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।