চলতি আমন মৌসুমে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। আর সেই নতুন ধান ইতিমধ্যে ঢুকতে শুরু করেছে মিলারদের গুদামে। তারপরেও বাজারে বেড়েছে চালের দাম। এ কারণে ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন কুষ্টিয়ার চালের বাজারে এসে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি দুই টাকা বেড়েছে। তা ছাড়া এ বছর ধানের দামও বেশ চড়া। আর এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারের ওপর।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া শহরের পৌর বাজার এবং বড় বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চাল কেজি প্রতি দুই টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে অটো রাইচ মিলে ভাঙানো মিনিকেট ধান ৬০ টাকা, সাধারণ মিনিকেট চাল ৫৮ টাকা, কাজললতা ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, আটাশ চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, বাসমতি চাল ৬৮ টাকা, কাটারিভোগ চাল ৬০ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪৫ টাকা এবং নাজির শাইল চাল ৭৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে চাল কিনতে আসা কুষ্টিয়ার পূর্ব মজমপুরের মিজানুর রহমান জানান, ‘দফায় দফায় বিভিন্ন অজুহাতে চালের দামসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে, এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের। আর এসব দেখভাল করার যেন কেউ নেই।’
কুষ্টিয়া পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, নভেম্বর মাসের ২০ তারিখের পর থেকেই কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এদিকে কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের ধানের দামও বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে গুটি স্বর্ণা ধান ৯৭০ টাকা মন এবং স্বর্ণা ফাইভ ধান ১০৩০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। অথচও দু-এক সপ্তাহ আগেও এসব ধান বাজারে ৯০০ এবং ৯৭০-৯৮০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি হয়েছে।
চালের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদিন প্রধান জানান, খাজানগর মোকাম থেকে ঢাকায় একটি ১৫ টন চাল বোঝাই ট্রাক যেতে আগে যেখানে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া লাগত। আর এখন ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই ট্রাক ভাড়া ১৮ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ৩০ অক্টোবর থেকে সরকারিভাবে চাল আমদানি বন্ধ ঘোষণা দেওয়ায় চালের বাজারে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন চালকল মালিক সমিতির এই নেতা।
কুষ্টিয়ার বাজার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে দাম বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে কেন চালের দাম বাড়ছে সেটাও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’