সৌদি আরব থেকে ফিরে মাল্টা চাষ করে সফল হয়েছেন মোশাররফ হোসেন। ইউটিউব দেখে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে তিন একর জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন এই মাল্টা বাগান। ফলনও বেশ। মাল্টা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাও খুশি। এখন মাল্টার কলম উৎপাদনে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন মোশাররফ হোসেন।
উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের উত্তর চরসাহাভিকারী ছোটফেনী নদীর পাড়ে মোশাররফ হোসেনের এই মাল্টা বাগান। ২১ বছর পর সৌদি আরবে থেকে ফিরে ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক চাষাবাদের প্রামাণ্যচিত্র দেখে তিনি মাল্টা বাগান করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালে তিনি শুরু করেন চাষাবাদ। বাগানে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সিলেট থেকে বারি-১ জাতের ২ হাজার ২০০ মাল্টা কলম কিনে রোপণ করেন। বর্তমানে এর মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কলম ফল দিচ্ছে। চলতি বছর এই মাল্টা বাগানে ফুল ও ফল ধরা শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কেজির বেশি মাল্টা তিনি বিক্রি করেছেন। তবে এ জন্য বাজারে যেতে হচ্ছে না মোশাররফ হোসেনকে। তাঁর বাগান থেকেই পাইকারেরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মাল্টা।
শুধু মাল্টা চাষে সীমাবদ্ধ থাকেননি মোশাররফ হোসেন। মাল্টা বাগানের ভেতরে-বাইরে রোপণ করেছেন উচ্চফলনশীল জাতের শ খানেক আমগাছ, তিন শতাধিক করে লেবু ও কলা গাছ। মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ইউটিউব দেখেই আমি মাল্টা চাষে আগ্রহী হই। তবে শাইখ সিরাজের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান আমাকে চাষাবাদে আগ্রহী করে তোলে। মাল্টা গাছে ফলন বেশ ভালো। তবে আমি মাল্টার কলম উৎপাদনে মনোযোগ দিয়েছে। ৫ হাজার মাল্টা কলম তৈরি করেছি। স্থানীয় উদ্যোক্তারাসহ নোয়াখালী ও ফেনী কৃষি অধিদপ্তর কলম ও চারা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন।’
মাল্টা চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণে জৈব সারের প্রয়োজন হয়। এই সারের চাহিদা মেটাতে গরুর খামার গড়ে তোলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোশাররফ হোসেন।
চরপার্বতী ইউনিয়নের সদস্য হাবিব উল্ল্যাহ বাহার বলেন, ‘মোশাররফের মাল্টা বাগান দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। তাঁর বাগানের মাল্টা কিনতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা আসেন। ফল সুস্বাদু হওয়ায় মানুষের আগ্রহ বেশ।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জে মাল্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই এখানকার বাগানে উৎপাদিত মাল্টা খুব সুস্বাদু ও মিষ্টি। আমরা তাঁকে চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’